ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সচেতন করতে রাতের বেলাতেও চালানো হচ্ছে সতর্কতামূলক মাইকিং।
বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন জনপদে গত কয়েকদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মাইকিংয়ের মাধ্যমে সীমান্তবাসীদের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন ও সীমান্ত আইন সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সতর্কবার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক মাইকিং পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে স্থানীয় জনগণ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন।
তিনি জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের পাশাপাশি মাদক ও পণ্য চোরাচালান রোধেও বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ আরও বলেন, “আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কোনো অংশ দিয়েই অবৈধ পুশইনের সুযোগ দেওয়া হবে না। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের প্রায় ৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। অতীতে এসব সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পুশইনের চেষ্টা ও সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।