প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে না পারলে, স্থিতিশীল সংসদ নিশ্চিত করতে না পারলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
বৃহস্পতিবার রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। ১২ মার্চ শুরু হওয়া ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার শেষ হয়। এই অধিবেশনে মোট কার্যদিবস ছিল ২৫ টি।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য ও অধিবেশনের সমাপনী ভাষণ একসঙ্গে দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। এর আগে অধিবেশনজুড়ে প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। বৃহস্পতিবার ধন্যবাদ প্রস্তাবটি সংসদে গৃহীত হয়। অবশ্য এই প্রস্তাব পাসের কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের সদস্যদের ‘না’ বলতে দেখা যায়। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইব না
বর্তমান সংসদ হবে এমন সংসদ যা বাংলাদেশের অতীতে কখনো হয়নি—এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এই সংসদে আমরা উভয় পক্ষ দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করব। উভয় পক্ষ কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইব না। আপনি-আমি মিলেই পূর্ণ সংসদ। যেকোনো একজন ব্যর্থ হলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে।’
বর্তমান বাংলাদেশ ও সংসদ হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দল ও সরকারি দলের মধ্যে অনেকগুলো বিষয়ে দ্বিমত থাকবে। বিতর্ক হবে, আলোচনা হবে। কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে প্রস্তাব এখনো আছে।
নিজের আসনের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেখলে মনে হয় এই চেয়ারে বসতে আরাম। কিন্তু এই চেয়ারটাতে বসলে তাঁর মনে হয় প্রতি মুহূর্তে আগুনের তাপ আসছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিরোধী দলের অনেক সদস্যও টেবিল চাপড়ান। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি হয়তো আরও পপুলার কথা বলতে পারতাম, যেটাতে আরও অনেক বেশি তালি হতো। কিন্তু এই চেয়ার আমাকে বলে আমি সব সময় পপুলার কথা বলতে পারি না।’ তিনি বলেন, এই চেয়ার বলে তাঁকে সঠিক সিদ্ধান্তই নিতে হবে, পপুলার সিদ্ধান্ত নয়।