বৃদ্ধকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল তরুণ তোফায়েলের কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন তোফায়েল আহমেদ (১৭) নামে এক তরুণ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা রেলওয়ে স্টেশনে রেললাইনের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এক বৃদ্ধকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে চট্টগ্রামগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তোফায়েল আহমেদ কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে কসবা রেলওয়ে স্টেশনের রেললাইনের ওপর এক বৃদ্ধ ব্যক্তি অসাবধানতাবশত বা অসুস্থতাজনিত কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত এগিয়ে যান তোফায়েল আহমেদ। তিনি বৃদ্ধকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় চট্টগ্রামমুখী আন্তঃনগর ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেস দ্রুতগতিতে স্টেশন অতিক্রম করার সময় তোফায়েল ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃদ্ধ ব্যক্তিকে রক্ষা করার জন্য নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনে নামেন তোফায়েল। তার এই সাহসী ও মানবিক উদ্যোগে বৃদ্ধ ব্যক্তি প্রাণে বেঁচে গেলেও নিজের জীবন রক্ষা করতে পারেননি তিনি। ঘটনাটি মুহূর্তেই স্টেশন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। পরে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, “কসবা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।” এদিকে, তোফায়েলের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী তার সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রশংসা করে বলেন, একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তারা তোফায়েলের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখার দাবি জানান। মানবিক দায়িত্ববোধ ও সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে যাওয়া তরুণ তোফায়েলের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার এই আত্মত্যাগ স্থানীয়দের হৃদয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।