একটি দেশ, একটি নাম, একটি ফুল, একটি সূর্যের জ্যোতি, একটি স্বপ্ন, একটি আশার আলো—নূর, ভিপি নূরুল হক নূর। রাজপথের আন্দোলন থেকে জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসা এই তরুণ নেতার পথচলা যেন সংগ্রাম, প্রতিকূলতা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার এক দীর্ঘ গল্প।
তিনি স্বপ্ন দেখেন দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে। স্বপ্ন দেখেন একটি বৈষম্যহীন, অধিকারভিত্তিক ও সুন্দর বাংলাদেশের। একজন তরুণ থেকে হাজারো তরুণের চোখে স্বপ্ন জাগিয়েছেন তিনি; হয়ে উঠেছেন অসংখ্য যুবক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অনুপ্রেরণা, শক্তি ও সাহসের প্রতীক।
দেশের কঠিন সময়ে, যখন সাধারণ মানুষের কণ্ঠ অনেকটাই রুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, তখনই রাজপথে উচ্চারিত হয়েছিল একটি অগ্নিঝরা বজ্রকণ্ঠ—নূরুল হক নূর। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। আন্দোলনের সময় হামলা, মামলা ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও তাঁর রাজনৈতিক পথচলা থেমে যায়নি। বরং সেই সংগ্রামই তাঁকে হাজারো ছাত্র-যুবকের কাছে পরিচিত করে তোলে এবং তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তি আরও দৃঢ় করে।
২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের পর ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে নূরুল হক নূর ভিপি নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচন তাঁকে জাতীয় পর্যায়েও আরও পরিচিত করে তোলে। এরপর ছাত্ররাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর যাত্রা শুরু হয়।
আমরা হঠাৎ কোনো পথ থেকে আসিনি; আমরা এসেছি রাজপথ থেকে। এই পথের প্রতিটি ধাপে ছিল আন্দোলন, প্রতিকূলতা, সমালোচনা ও রাজনৈতিক পরীক্ষা। তাই নূরের সমর্থকদের কাছে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো রাজপথের সেই দীর্ঘ সংগ্রাম।
নূরুল হক নূরের রাজনীতি নিয়ে কারও সমর্থন থাকতে পারে, কারও বিরোধিতা থাকতে পারে। কেউ তাঁকে পছন্দ করেন, কেউ সমালোচনা করেন—এটাই গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক বাস্তবতা। কিন্তু তাঁকে উপেক্ষা করাও কঠিন। কারণ, বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতিতে নূরুল হক নূর ইতোমধ্যে একটি পরিচিত ও আলোচিত নাম। রাজপথের একজন আন্দোলনকর্মী থেকে ডাকসুর ভিপি হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসা তাঁর এই যাত্রাই তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে।
আজ তিনি যে রাজনৈতিক অবস্থানেই থাকুন না কেন, আগামী দিনের রাজনীতিতে তাঁর প্রয়োজনীয়তা কতটা থাকবে—সেটি সময়ই নির্ধারণ করবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—তাঁকে নিয়ে আলোচনা থামছে না। আপনি তাঁকে সমর্থন করুন কিংবা সমালোচনা করুন, তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকছেই। এ কারণেই অনেকের কাছে নূর বাংলাদেশের রাজনীতির একজন ‘এক্স-ফ্যাক্টর’।
নূরের কর্মীদের অনেকেই হেয় করেন, অপমান করেন কিংবা নিন্দা করেন। তাতে আমাদের পথচলা থেমে যাবে না। একজন নেতার ভুল থাকতে পারে, সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যও থাকতে পারে। তবে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি তাঁকে আরও পরিণত ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করাও আমাদের দায়িত্ব।
তরুণ, যুবক ও ছাত্রসমাজ যদি আবারও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসে, তবে গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনও নতুন শক্তি পেতে পারে। নতুন প্রজন্ম এগিয়ে এলে গণমানুষের অংশগ্রহণও আরও বিস্তৃত হতে পারে।
যারা বারবার নূরুল হক নূরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেন, তাঁদের বক্তব্যের জবাব শেষ পর্যন্ত সময়ই দেবে। কারণ রাজনৈতিক বাস্তবতা কখনো স্থির থাকে না। একজন নেতার উত্থান-পতন, জোট-সমীকরণ ও রাজনৈতিক অবস্থান—সবকিছুর মূল্যায়ন হয় সময়ের পরিক্রমায়।
তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হওয়া উচিত বলে কেউ কেউ মনে মনে করতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মিডিয়া ট্রায়াল, অপপ্রচার, ও ব্যক্তিগত আক্রমণের সংস্কৃতিও বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। আমরা চাই—রাজনীতিতে যুক্তি থাকুক, মতপার্থক্য থাকুক, কিন্তু হিংসা ও প্রতিহিংসা যেন না থাকে।
আমাদের বিশ্বাস, একজন নেতাকে শুধু প্রশংসা করলেই তাঁর হাত শক্তিশালী হয় না; ভুল ধরিয়ে দেওয়া, গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়া এবং ভালো কাজের জন্য উৎসাহিত করাও নেতৃত্বকে আরও পরিণত করে। তাঁর প্রতি রাগ, ক্ষোভ বা অভিমান থাকতেই পারে; কিন্তু সেই জায়গা থেকেই গঠনমূলক সহযোগিতা ও ইতিবাচক সমালোচনা প্রয়োজন।
“সারা দেশের একই সুর, নেতা মোদের ভিপি নূর”—এই স্লোগান আমাদের কাছে শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি তরুণদের স্বপ্ন, অধিকার ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নূরুল হক নূর একজন আলোচিত তরুণ নেতা—কারও কাছে তিনি সম্ভাবনার প্রতীক, কারও কাছে বিতর্কিত রাজনৈতিক চরিত্র। কিন্তু তাঁকে ঘিরে যে আলোচনা, আগ্রহ ও রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করা কঠিন।
আজ কেউ তাঁকে সমর্থন করছে, কাল হয়তো সমালোচনা করবে; আবার আজকের সমালোচকও ভবিষ্যতে তাঁর কোনো সিদ্ধান্তকে সমর্থন করতে পারে। রাজনীতিতে এমন পরিবর্তন নতুন কিছু নয়। রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তিত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সময়ই একজন নেতার প্রকৃত মূল্যায়ন করে।
কথাগুলো তিক্ত হলেও বাস্তবতার আলোকে বলা—দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ, অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং নতুন রাজনৈতিক চিন্তার প্রয়োজন রয়েছে। সেই জায়গায় নূরুল হক নূরের মতো তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। রাজপথের সংগ্রাম থেকে জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর পরিসরে তাঁর যাত্রা তাই শুধু একজন ব্যক্তির গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষারও একটি প্রতিচ্ছবি।
ভিপি নূরুল হক নূর ভাইয়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন। হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার রাজনৈতিক সংস্কৃতি বন্ধ হোক—গণমানুষের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায়, অধিকার, মানবিকতা ও গণতন্ত্র।
জয় হোক গণমানুষের।
জয় হোক তারুণ্যের।
জয় হোক বাংলাদেশের।
— মোঃ বিল্লাল সরকার
দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা)
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা
আহ্বায়ক, কসবা উপজেলা শাখা
© ২০২৬ মোঃ বিল্লাল সরকার। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
এই লেখাটি লেখকের নিজস্ব রচনা ও মতামত। লেখকের অনুমতি ছাড়া সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে হুবহু কপি, পুনঃপ্রকাশ, বাণিজ্যিক ব্যবহার বা নিজের নামে প্রকাশ করা অনুচিত। উদ্ধৃতি বা পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে লেখকের নাম ও মূল প্রকাশনার সূত্র উল্লেখ করতে হবে।