পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের তথ্য ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ টাকার এই সরকারি প্রকল্পে নকশা ও প্রাক্কলন (এস্টিমেট) অনুযায়ী কাজ না করে মাত্র ১০ লাখ টাকার কম মূল্যের নিম্নমানের কাজ শেষ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ কর্মসূচির আওতায় বদরপুর ইউনিয়নের খলিশাখালী খালের উপর ২৩ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫২ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
কার্যাদেশ পায় ‘শাইমা সাহিল এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালভার্ট নির্মাণের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং প্রাক্কলিত বাজেটের তুলনায় বাস্তবে কাজের পরিমাণ অতি নগণ্য। প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজের যে বাজেট বরাদ্দ ছিল, তার অর্ধেকেরও কম—অর্থাৎ আনুমানিক ১০ লাখ টাকারও কম কাজ সরজমিনে ৫ মাস আগে সম্পন্ন করা হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস. এম. দেলোয়ার হোসেন, পটুয়াখালী সদরের সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাত এবং সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম মাহাবুব হোসেন পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেন। প্রকল্পটির কাজ পুরোপুরি ও সঠিকভাবে সম্পন্ন না হতেই তারা বিল ছাড় করেন এবং সরকারি বিপুল অঙ্কের অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করে আত্মসাৎ করেন।
বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে আসলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে । পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাঁর কার্যালয়ের অধীনস্থ শাহিন হায়দার নামক এক কর্মচারীকে নিউজ প্রকাশ করা সাংবাদিককে ‘ম্যানেজ’ করার দায়িত্ব দেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই কর্মচারী শাহিন হায়দার মূলত সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘শাইমা সাহিল এন্টারপ্রাইজ’-এর ঠিকাদারের ভাই। ফলে কার্যালয়ের কর্মচারী ও ঠিকাদারের পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অনিয়ম গোপন করার চেষ্টা করা হয়।
খলিশাখালী খালের ওপর নির্মিত এই নিম্নমানের বক্স কালভার্ট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতির কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ ঘটনায় জড়িত জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস. এম. দেলোয়ার হোসেন, সাবেক ইউএনও রওজাতুন জান্নাত, পিআইও এইচ এম মাহাবুব হোসেন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।