উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ পদে বসে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার এবং সব খাতে দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ নিয়ে পটুয়াখালী সদর ত্যাগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাত। টিআর-কাবিখা, এডিপি তহবিল, সরকারি ইজারা ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বরাদ্দসহ সর্ব সেক্টরে অর্থ তছরুপের অভিযোগ ওঠার পর তার এই আকস্মিক ও তড়িঘড়ি প্রস্থান নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সেবা প্রার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও উপজেলা প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী সদরে যোগদানের পর থেকেই ইউএনও রওজাতুন জান্নাত ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিটি সরকারি খাতে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) কয়েকজন প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পাস ও ছাড়পত্রের জন্য তাকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিতে হতো।
কমিশন ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর মিলত না। এছাড়া এডিপির বাজেট বণ্টন, হাট-বাজার ও সরকারি ইজারার অর্থ লেনদেন এবং জাতীয় দিবস পালনের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিলের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তিনি চরম অসচ্ছতা দেখিয়েছেন। গত ১১ আগস্ট সাধারণ সেবা প্রার্থীরা ইউএনও কার্যালয়ে এসে জানতে পারেন তিনি উপস্থিত নেই।
এর পরপরই রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে ১২ আগস্ট জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং-০৫.৪৭.০০০০.০০৬.০৮.০০২.২২-৫৭৫) বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে (পরিচিতি নং-১৮৮১৩) গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বদলি করা হয় এবং ওই দিন বিকেলেই তাকে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশের আলোকে তিনি ১৩ আগস্ট সাদুল্লাপুরে দ্রুত যোগদান সম্পন্ন করেন।
ইউএনও রওজাতুন জান্নাতের মাধ্যমে পদপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের কত টাকার সরকারি তহবিল তছরুপ হয়েছে, তার সঠিক এস্টিমেট ও তথ্য জনসাধারণের সামনে প্রকাশ সহজ করতে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।