বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার চত্রংপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক ১নং সহ সভাপতি মুহাম্মদ এজমল হোসেন পাইলট।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নবগঠিত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। বুধবার আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, এজমল হোসেন পাইলট রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিনি ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মহসিন হল ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, ২০১২ সালে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির দলীয় অঙ্গনে তিনি ‘পাইলট’ নামেই অধিক পরিচিত। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্নেহভাজন হিসেবে পরিচিত এ নেতা সম্পর্কে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত কথা রয়েছে- ‘ম্যাডামের পাইলট, ছাত্রদলের পাইলট’। নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, বেগম খালেদা জিয়াও তাকে স্নেহভরে ‘পাইলট’ বলে সম্বোধন করতেন।
রাজনীতির মাঠে সংগ্রামী ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত এজমল হোসেন পাইলট ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে যুবদলের রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি একাধিকবার মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবরণ এবং রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।
যুবদলের নতুন দায়িত্ব পেয়ে এজমল হোসেন পাইলট গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে যুবদলের নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের প্রতিও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষায় আমি সর্বোচ্চ নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবো। জাতীয়তাবাদী যুবদলকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে দেশের প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে যুবদলকে আরও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবো।
তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক পথচলায় যারা পাশে ছিলেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সহযোগিতা করেছেন এবং দোয়া ও সমর্থন দিয়ে সাহস জুগিয়েছেন, তাদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সংগঠনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবো বলে বিশ্বাস করি।
এদিকে যুবদলের নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় এজমল হোসেন পাইলটের শুভাকাঙ্ক্ষীরা আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।