পটুয়াখালী জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে যোগদানের পর থেকেই জেলা রাজস্ব প্রশাসনের কার্যক্রমে গতি বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সেবার মানোন্নয়নে একের পর এক দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ নিচ্ছেন ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। জেলা রাজস্ব প্রশাসনের গৌরব ও সুশাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এবার ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় দালালচক্র ও হয়রানি প্রতিরোধে শুরু হয়েছে নিয়মিত নজরদারি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (০৪ জুন ২০২৬) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে এক সন্দেহভাজন দালালকে আটক করা হয়। অফিস চলাকালীন সার্ভেয়ারদের কক্ষে ওই ব্যক্তির অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট এলএ মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের জেরার মুখে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না মর্মে অঙ্গীকার করেন। অপরাধ স্বীকার করায় বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ২০০ (দুইশত) টাকা অর্থদণ্ড এবং ৩ (তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
গত ১৪ সেপ্টোম্বর ২০২৫ তারিখে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক হিসেবে ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী দায়িত্ব নেয়ার পর বিগত আট মাসে জেলা প্রশাসনে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রাপ্তিতে দীর্ঘদিনের 'পার্সেন্টেজ বাণিজ্য' ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন।
দালালদের সাথে যোগসূত্র থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ডিসি অফিসের এলও (Land Acquisition) শাখার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। একই সাথে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের একাধিক মানবিক ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের কারণে পটুয়াখালীর সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে ।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণসহ সকল সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে এই ধরনের শুদ্ধি অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।