কসবা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের গুরিয়ারুপ গ্রামে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক নৈশ উঠান বৈঠক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত নিজস্ব প্রতিনিধি, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): “মাদককে না বলুন, যুবসমাজ ও গ্রামগুলোকে অপরাধ থেকে রক্ষা করুন”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের গুরিয়ারুপ গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকায় অবস্থিত গুরিয়ারুপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক নৈশ উঠান বৈঠক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গুরিয়ারুপ গ্রামের যুবসমাজের পাশাপাশি তালতলা, দাউরিয়া, শাহপুর ও গজারিয়া গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজের মুরব্বি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে মাদকের ভয়াবহ কুফল, সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক ক্ষতি এবং তরুণ প্রজন্মের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের প্রতি সতর্ক নজরদারি রাখতে হবে। পরিবার, সমাজ এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সচেতনতাই পারে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, মাদক একটি ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। গুরিয়ারুপ গ্রামের যুবসমাজ মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। তারা জানান, কোনোভাবেই যেন গ্রামে মাদক প্রবেশ বা সরবরাহ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি আশপাশের গ্রামগুলোতেও মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। শাহপুরসহ আশপাশের এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান। তারা বলেন, ইয়াবা, গাঁজা ও সব ধরনের মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং মাদক কারবারিদের প্রতিহত করতে এলাকাবাসী ও কসবা পৌরসভার সকল গ্রামকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং প্রয়োজন হলে প্রশাসনের সহযোগিতায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আলোচনা সভার আহ্বায়ক ও সভাপতির নেতৃত্বে স্থানীয় যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে নৈশ উঠান বৈঠকটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।