জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বিরোধী দলের ‘অস্থিরতা’ নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, গত ১৮ মাসে যে ‘আরামদায়ক’ পরিস্থিতিতে বিরোধী নেতারা ছিলেন, বর্তমানে সেই সুযোগ না থাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেলে শুরু হওয়া অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাজিব আহসান বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারকে বিরোধী নেতারা সমর্থন করেছিলেন এবং সে সময় তারা বিভিন্ন সুবিধা পেয়েছেন। এখন সেই সুযোগ সীমিত হওয়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ বক্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে হইচই করেন।
শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন
জুলাই আন্দোলনে শহীদের সংখ্যা নিয়েও সংসদে বিতর্ক দেখা দেয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি গেজেটে ৮৪৪ জন শহীদের তালিকা প্রকাশ করা হলেও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা উল্লেখ করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যদি ১৪০০ শহীদের মধ্যে ১২০০ পরিবারের কাছে গিয়ে থাকেন, তবে সরকারি তালিকার সঙ্গে এ সংখ্যার অমিল কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে।
রাজিব আহসান বলেন,
“প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ জরুরি, নইলে ভবিষ্যতে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
বাক্স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক শালীনতা
সরকারের সমালোচনা করার অধিকার স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমালোচনা যেন শালীনতার মধ্যে থাকে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে কটূক্তি করা হচ্ছে, যা দুঃখজনক।
বিরোধীদলীয় নেতার জবাব
মাগরিবের নামাজের বিরতির পর বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, তিনি কোনো ‘বানোয়াট’ তথ্য দেননি।
শফিকুর রহমান দাবি করেন, তাদের কাছে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা রয়েছে, যা যাচাই-বাছাই করেই প্রকাশ করা হয়েছে এবং তা ওয়েবসাইটেও উন্মুক্ত। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সূত্র—বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা ১৪০০-এর বেশি হতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, অনেক নিখোঁজ ব্যক্তির এখনো কোনো হিসাব নেই এবং পরিবারগুলো এখনও উত্তর খুঁজছে।