দেশে শতাধিক সাংবাদিক সংগঠন সক্রিয় থাকলেও সংবাদকর্মীদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় তাদের একাট্টা ভূমিকা দেখা যায় না। সাংবাদিকতায় নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয়, মালিকপক্ষের শোষণ ও তথাকথিত সাংবাদিক সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিস্ফোরক পোস্ট দিয়েছেন আলজাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, দেশে সঠিকভাবে খুঁজলে শতাধিক সাংবাদিক সংগঠন পাওয়া যাবে, কিন্তু সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে কখনো এদের একাট্টা হতে দেখা যায় না। সাংবাদিকতা একটি নেশার মতো পেশা। যারা জনস্বার্থে নিষ্ঠার সঙ্গে এই কাজ করেন, তাঁদের কাছে টাকা উপার্জন মূল উদ্দেশ্য নয়; কেবল জীবিকা নির্বাহের তাগিদেই তাঁরা এতে যুক্ত হন। তবে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকেও দেশের বিভিন্ন স্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে তিনি জানান, এই সৎ গোত্রের সাংবাদিকের সংখ্যা বর্তমানে নগণ্য।
জুলকারনাইন সায়ের স্পষ্টভাবে বলেন, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকরা পেশার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়েই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। ফরমায়েশি কাজ বা নীতিবিরুদ্ধ কোনো কিছুর সঙ্গে তাঁরা কখনোই আপস করেন না। “আপনি তাঁদের কোনো সংগঠনে দেখবেন না, নীতির সঙ্গে আপস না করা এসব সাংবাদিক ধান্দাবাজি বা সংগঠনের ধারেকাছেও ঘেঁষেন না,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় বড় মিডিয়া আউটলেটে তারকা সাংবাদিকদের দেখা মিললেও নীতি সওদা করেন না—এমন সাংবাদিক খুঁজে পাওয়া এখন মেলা ভার।
গণমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ বৈষম্য ও শোষণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিলিয়নেয়ার মালিকপক্ষ এই সুযোগটিই পুরোপুরি কাজে লাগায়।
শীর্ষ দু-একজনকে ৩ থেকে ২০ লাখ টাকা কিংবা কয়েকজন সিনিয়রকে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা দিলেই চলে; কিন্তু মাঝারি ও জুনিয়র সাংবাদিকদের বেতন দিতেই তাদের চরম আপত্তি। অনেক সংবাদ মাধ্যম তো সরাসরি ‘ম্যানেজ করে নিতে’ বলে। এ ধরনের অনৈতিক পরিবেশের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষিত মেধাবীরা এখন এই পেশায় আসা বন্ধ করে দিচ্ছেন।
মালিকদের বিলাসী জীবনের সমালোচনা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, যে মালিকেরা ৪০০ থেকে ৮০০ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা প্রাইভেট জেট হাঁকিয়ে বেড়াতে পারেন, তাঁরাই প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন দিতে চান না।
বর্তমান সাংবাদিক সমাজকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ আখ্যা দিয়ে আলজাজিরার এই সাংবাদিক মন্তব্য করেন, যারা নিজেদের অধিকারের জন্য দাঁড়াতে শঙ্কিত এবং নীতি বিসর্জন দিয়ে মালিকের দাসে পরিণত হয়েছে, তাদের কাছ থেকে জনকল্যাণ আশা করা যায় না। যেসব সাংবাদিকের কলম সত্যের বদলে মালিকের চাপিয়ে দেওয়া বয়ান (ন্যারেটিভ) প্রচার করে জনসাধারণকে ভুল তথ্যের স্রোতে ভাসায়, নিজেদের ওপর খড়্গ নেমে এলে নিঃশব্দে আত্মবিসর্জন দেওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো উপায় থাকে না।