বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার অবস্থান নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা আলোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন (জুয়েল) বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় অবস্থিত বিলাসবহুল আবাসিক কমপ্লেক্স The V-এ অবস্থান করছেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই নেতা একই কমপ্লেক্সের দুটি পৃথক চার বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করছেন। আবাসনটি কলকাতার অন্যতম অভিজাত প্রকল্প হিসেবে পরিচিত এবং এর সঙ্গেই অবস্থিত পাঁচ তারকা The Westin Kolkata Rajarhat হোটেল।
সূত্রগুলোর দাবি, দুটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ও সার্ভিস চার্জ বাবদ প্রায় ৭ লাখ ভারতীয় রুপি পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে এ সংক্রান্ত কোনো ভাড়ার চুক্তিপত্র বা সরকারি নথি এই প্রতিবেদনের হাতে আসেনি। ফলে তথ্যটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, ভবনটির অভ্যন্তরেই জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, রেস্তোরাঁ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকায় শেখ হেলাল ও শেখ জুয়েলকে খুব কমই বাইরে যেতে দেখা যায়। তবে ভবনের সঙ্গে সংযুক্ত ওয়েস্টিন হোটেলের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় তারা নিয়মিত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। বৈঠকগুলোর উদ্দেশ্য বা অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পারিবারিক উপস্থিতি সম্পর্কেও কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্রগুলোর দাবি, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল তার স্ত্রীর সঙ্গে ওই অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করছেন এবং তাদের দুই সন্তান সময়ে সময় ভারতে গিয়ে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অন্যদিকে, শেখ হেলালের স্ত্রীকে সেখানে দেখা যায়নি বলে সূত্রের দাবি। তবে তার ছেলে শেখ তন্ময়কে নিয়মিত বিরতিতে ওই কমপ্লেক্সে আসতে দেখা যায় বলেও জানা গেছে।
এ ছাড়া, ভারতে অবস্থানরত কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের নির্বাচিত কয়েকজন নেতা-কর্মীরও ওই আবাসিক কমপ্লেক্সে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে বলে কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে এসব মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।