শহিদুল ইসলাম, প্রতিবেদক:
প্রবাসে বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের সংগঠন গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে (জিসিএ ইউকে) এর বার্ষিক পিকনিক ২০২৬ আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ সোমবার যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডের ভ্যালেনটাইন্স পার্ক-এ আয়োজিত এ পিকনিকে লন্ডনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগঠনের সদস্যবৃন্দ পরিবার পরিজন অতিথিসহ প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।
দুপুর ১২টার মধ্যে অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হলে পুরো পার্ক এলাকা পরিণত হয় বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের এক মিলনমেলায়। দীর্ঘদিনের ব্যস্ততার পর একসঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দ, আড্ডা ও স্মৃতিচারণে মেতে ওঠেন উপস্থিত সবাই।
পিকনিকের মূল আকর্ষণ ছিল দিনব্যাপী নানা আয়োজন। মো. মাসুদুর রহমানের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। এতে জিসিএ ইউকে-এর সদস্য, তাদের পরিবারের সদস্য ও অতিথিরা গান, আবৃত্তি, অভিনয়, ছড়া, কৌতুক, ধাঁধা ও স্মৃতিচারণসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন।
দুপুরে ছিল বিশেষ খাবারের আয়োজন। খাবার পরিবেশনের পর শুরু হয় বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষের জন্য খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা। শিশুদের খেলাধুলা, নারীদের বালিশ খেলা ও বল নিক্ষেপ এবং পুরুষদের রশি টানাটানি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। খেলাধুলার আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জাওয়াদ যিনি জিসিএ ইউকে-এর খেলাধুলা ও বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিজকে এগিয়ে নিতে নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
পিকনিকে দেশীয় সংস্কৃতি ও খাবারেরও ছিল বিশেষ উপস্থিতি। চা-নাশতা, বিভিন্ন ধরনের পিঠা, চনামুড়ি, পিয়াজি, আমের চাটনি ও ফুচকাসহ নানা দেশীয় খাবারের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি কোণার চাটগাইয়া স্টল-এর বিশেষ আয়োজনও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জিসিএ ইউকে-এর ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, কনভেনিং কমিউনিটির কনভেনার ব্যারিস্টার আবু মুনছুর শাহজাহান, ট্রাস্টি শওকত মাহমুদ টিপু, ট্রাস্টি মীর রাশেদ আহমেদ, কাউন্সিলর সৈয়দ ফিরোজ গনি, মো. আরশাদ মালেক, মোহাম্মদ আলী, মুনির মাহমুদ, হাসান আনোয়ার, মো. আলী রেজা, সুজন বড়ুয়া, অ্যাডভাইজার ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলমগীর, ব্যারিস্টার জিল্লুরসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট অতিথিরা।
দিনটির আবহাওয়া ছিল কিছুটা বৈচিত্র্যময়। কখনো মেঘলা আকাশ, আবার মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টি হলেও পিকনিকের আনন্দে কোনো ভাটা পড়েনি। বরং বৃষ্টির মধ্যেও অংশগ্রহণকারীদের হাসি, আড্ডা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস অব্যাহত ছিল।
আয়োজন সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন লুনা তানজিনা, নূরুন্নবী আলী, কুতুবুল আলম, আসমা আলম, মো. আব্দুল হালিম, মাওলানা মোহাম্মদ হাসান, রেজাউল করিম, মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ ফয়েজ জামান, সায়েমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
আয়োজকরা বলেন, এ পিকনিকের উদ্দেশ্য ছিল শুধু বিনোদন নয়; বরং প্রবাসে বসবাসরত বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসী ও তাদের পরিবারের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করা। বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, প্রবাসেও বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি অটুট রয়েছে।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এটি শুধুমাত্র একটি পিকনিক ছিল না এটি ছিল প্রবাসে বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের এক প্রাণের মিলনমেলা। দীর্ঘদিন পর পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা করা, নতুন সম্পর্ক তৈরি করা এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সকলের বক্তব্যে পিকনিকের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সুন্দর আয়োজনের প্রশংসা উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সমাপনী বক্তব্যে জিসিএ ইউকে-এর ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন এবং কনভেনার ও ট্রাস্টি ব্যারিস্টার আবু মুনছুর শাহজাহান পিকনিক সফল করতে যারা শ্রম, সময় ও সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার কারণেই এবারের আয়োজন সফল হয়েছে। দিনের আনন্দ ও স্মৃতিগুলো জিসিএ ইউকে-এর সদস্যদের মনে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।
প্রায় ২০০–২৫০ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জিসিএ ইউকে-এর এবারের বার্ষিক পিকনিক প্রবাসে বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।