পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বসবাসরত বাংলাদেশি নারী মীম আক্তারের সঙ্গে গণপরিবহনে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
২৬ বছর বয়সী মীম আক্তার, দুই সন্তানের জননী, দাবি করেছেন যে হিজাব ও মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায় বাসে উঠতে গেলে তাকে বাধা দেওয়া হয়। তার ভাষ্যমতে, বাসচালক তাকে মাস্ক খুলতে নির্দেশ দেন এবং তা অস্বীকার করলে বাস থেকে নেমে যেতে বলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, চালক পর্তুগিজ ভাষায় “Tiras a máscara ou sais” বলে হুমকি দেন, যার অর্থ—“মাস্ক খুলুন, না হলে নেমে যান।” এ ঘটনায় তিনি নিজেকে অপমানিত ও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বলে জানিয়েছেন।
পর্তুগালের প্রভাবশালী দৈনিক Público তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ঘটনাটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর বক্তব্যসহ প্রাথমিক তথ্য যাচাইয়ের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান Escola do Castelo এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে লিসবনের গণপরিবহন সংস্থা Carris জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট চালকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে, বর্ণবাদবিরোধী সংগঠন SOS Racismo জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি বৈষম্যমূলক আচরণের আওতায় পড়তে পারে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর লিসবনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠন দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
মীম আক্তার এই ঘটনার পর মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ সামনে এনেছেন এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অগ্রগতি এখন পর্যবেক্ষণে রয়েছে।