বর্ষাকালে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মারামারির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। তবে এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও পেশাগত নৈতিকতা নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সাধারণ ও দুর্বল পক্ষের আহত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়েই তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দিয়ে দিচ্ছে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগ। আর এই পুরো ঘটনায় পর্দার আড়াল থেকে ইন্ধন ও নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে জড়িয়ে দুই পক্ষই পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত প্রভাবশালী একটি পক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অন্য পক্ষের (দুর্বল পক্ষ) মারাত্মক আহত রোগীদের জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দিচ্ছেন সার্জারি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। এতে করে গুরুতর জখম হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা ও সঠিক মেডিকেল রিপোর্ট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রোগীদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজাকে বিষয়টি জানাতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।" এ কথা বলেই তিনি দ্রুত কলটি কেটে দেন এবং মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে রাখেন।
রোগীদের পরিবারের দাবি, হাসপাতালে আর্থিক লেনদেন ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার মৌলিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
বর্ষাকালে মারামারির জেরে হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ার সুযোগ নিয়ে গড়ে ওঠা এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িত চিকিৎসকসহ তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।