ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হাসিবকে খুঁজতে তাঁর বাড়িতে গেছেন বিএনপির ২০ থেকে ৩০ জন নেতা-কর্মী। গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) হাসিব বাড়িতে আছেন, এমন খবর পেয়ে তাঁরা বাড়িতে যান। তবে তাঁকে না পেয়ে তাঁর মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ঘরে ঢুকে খোঁজাখুঁজি করেন বলে জানা গেছে। চলে যাওয়ার সময় তাঁরা ‘পালিয়ে কত দিন বাঁচবি’ বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের পানাইল গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুর হোসেন (বুলবুল) সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে পানাইল ভোটকেন্দ্র থেকে চাপুলিয়ার মজিদ শেখ সহ কিছু বিএনপি কর্মীকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে হাসিবের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া এবং সরকারি বরাদ্দের টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের কাজ ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘২০১৮ সালের নির্বাচনে মঞ্জুর হোসেন (বুলবুল)কে বিনা ভোটে এমপি নির্বাচিত করার প্রক্রিয়ায় হাসিবের ভূমিকা ছিল। আমাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয়নি। আমরা ভোট দিতে পারিনি।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সদস্য লিটন মিয়া বলেন, ‘যারা বিগত দিনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের অন্যায় করেছে, তারা নিজেরাই পলাতক। এলাকায় এলে জনগণ তাদের বিচারের মুখোমুখি করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, তারা আমাদের নিশ্চয় সহযোগিতা করবে।’
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে হাসিব বাড়িতে ছিলেন। পরে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে এলাকায় তাঁর উপস্থিতি নেই বলে স্থানীয়দের দাবি। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও সংগঠনটির কমিটি না থাকায় তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি ছিল না বলে জানা গেছে।
হাসিবের মা সুমি বেগম বলেন, তাঁর ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ বা অন্যায়-জুলুম করার অভিযোগ সত্য নয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁর ছেলে বাড়িতে ফিরতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
সুমি বেগমের ভাষ্য, তাঁর ছেলেকে খুঁজতে বাড়িতে লোকজন এসেছিলেন। তবে হাসিব বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে হাসিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় আলফাডাঙ্গা থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি বলে জানা গেছে।