সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পারিবারিক ও রাজনৈতিক পোস্ট শেয়ারকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নে এক বিএনপি কর্মীকে মারধর এবং পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পটুয়াখালী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খলিশাখালী ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক খানের পারিবারিক বিষয় ও তালাকসংক্রান্ত খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। উক্ত বিষয়ে প্রকাশিত একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, বদরপুর ইউনিয়ন শাখার কর্মী নাসির উদ্দিন হাওলাদার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই পোস্ট শেয়ার করার জের ধরে গত কয়েকদিন আগে নাসির উদ্দিন হাওলাদার লাউকোটি থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইউনুস হাওলাদারের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক খান, ২নং বদরপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল খান এবং শহিদুল খান—এই তিন ভাই মিলে তাকে গুরুতর মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন হাওলাদার বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের জেরে গতকাল ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে খলিশাখালী ৫নং ওয়ার্ডের সুর বাড়ির সামনে পুনরায় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় পাশেই খলিশাখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা চলছিল, যেখানে শত শত দর্শক উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ হট্টগোল ও চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ও দর্শকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লোকজনের সহযোগিতায় উভয় পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।