পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিমের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়ম, পেশাগত বৈষম্য এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন সাংবাদিকরা। তবে সভার প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের কোনো সদুত্তর বা ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য দেননি।
সভায় গণমাধ্যমকর্মী মুহাম্মাদ রাকিব জেলার বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়ম, কুয়াকাটার বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন করেন, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়মের বিষয়ে শতভাগ তথ্য-উপাত্তসহ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না?
তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চান, কোনো দপ্তরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণসহ অনিয়ম তুলে ধরা হলে অভিযুক্ত দপ্তর প্রধানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বা দপ্তরে সুপারিশ করবে কি না?
এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর পদক্ষেপের অপেক্ষায় না থেকে জেলা প্রশাসন নিজস্ব এখতিয়ার বলে তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না?
এছাড়া দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় দীর্ঘবছর ধরে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎকারী সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে মহিপুর থানা বা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ার বিষয়টি তিনি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এভাবে চলতে থাকলে বিনিয়োগকারীরা চরম আস্থা সংকটে পড়বেন।
পাশাপাশি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে সঠিক সময়ে তথ্য না দিয়ে সাংবাদিকদের নানাভাবে হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রিতার আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে ?
দীর্ঘ এই মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রতিটি প্রশ্ন ও অভিযোগ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব, শিক্ষা ও আইসিটি) আবদুল কাইয়ুমকে নোট করতে দেখা গেলেও, সভার সমাপনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর বা সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেননি।
তবে তিনি হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ অনিয়মের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের খোঁজ নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে তথ্য সরবরাহ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পটুয়াখালীর সাধারণ নাগরিকরা যাতে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার জন্য ঢাকা পর্যন্ত যেতে না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন , গণমাধ্যমের তুলে ধরা অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া জেলা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। কেবল নোট নেওয়া এবং তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ বা সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা না দেওয়া হতাশাজনক, যা প্রশাসন সম্পর্কে জনমনে ধামাচাপার ধারণাও তৈরি করতে পারে।
তবে নবনিযুক্ত হওয়ায় জেলার সার্বিক পরিস্থিতি ও সিন্ডিকেট সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল না থাকার কারণে প্রশাসনিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে একারণে তিনি হয়তো সুনির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিটি অভিযোগ ও প্রশ্ন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে নোট করে নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য থাকতে পারে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো দালিলিক ও প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে সুচিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (অ.দা.) ও পটুয়াখালী পৌর প্রশাসক তারেক হাওলাদার এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মহসিন উদ্দিনসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।