পটুয়াখালী সদর উপজেলায় রাস্তা সংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন না করে এবং অসম্পাদিত কাজের বিপরীতে ঠিকাদারকে কোটি কোটি টাকার অতিরিক্ত বিল পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার পটুয়াখালী জেলা সমন্বিত শাখা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম সরেজমিনে এ তদন্ত অভিযান পরিচালনা করে। তদন্তকালে দুদক কর্মকর্তারা এলজিইডির সংশ্লিষ্ট সড়ক সংস্কার কাজের নথিপত্র পর্যালোচনা ও সরেজমিনে পরিদর্শন করে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দুদকের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে ড্রয়িং (ডিজাইন) অনুযায়ী সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করে।
অভিযান শেষে সমন্বিত পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস জানান, “তদন্তে পাওয়া যাবতীয় অনিয়ম ও সত্যতার ভিত্তিতে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা ও নির্দেশনা মোতাবেক আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে প্রাপ্ত নথিপত্র ও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ওয়ালিয়ার রহমান কর্তৃক উপজেলা প্রকৌশলী জনাব মো. খাইরুল বাসার এবং তৎকালীন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বর্তমানে মির্জাগঞ্জে কর্মরত) মো. আতিকুর রহমানকে শোকজ (কারণ দর্শানো নোটিশ) প্রদান করা হয়েছে।
স্মারক নং-৩১৬১ ও ৩১৬২ এর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, পটুয়াখালী সদর উপজেলার অধীনে একাধিক প্যাকেজে (Package No. CAFDRIRP/Patuakhali/VR/ER/W-35/2023-24 এবং CAFDRIRP/Patuakhali/UNR/ER/W-36/2023-24) মরীচবুনিয়া, লোহালিয়া ও জইনকাঠি এলাকার সড়কগুলোর সংস্কার কাজ না হওয়া সত্ত্বেও বা অসম্পাদিত থাকা সত্ত্বেও ভুয়া বিল প্রদান করা হয়েছে।
নোটিশে আরও জানানো হয় W-35/2023-24 প্যাকেজে অসম্পাদিত কাজের বিপরীত ১ ও ২য় চলতি বিলে ১,৫০,০০,০০০ (এক কোটি ৫০ লাখ) টাকা অতিরিক্ত প্রদান করা হয়েছে।
W-36/2023-24 প্যাকেজে ১ম চলতি বিলে প্রায় ৫০,০০,০০০ (পঞ্চাশ লাখ) টাকা অতিরিক্ত প্রদান করা হয়েছে।
ভুল ও ভুয়া বিলের মাধ্যমে যথাক্রমে প্রায় ৪৭,০০,০০০ (সাতচল্লিশ লাখ) টাকা এবং ৪৪,০০,০০০ (চুরাশি লাখ) টাকা ঠিকাদারকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়।
অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, তার ব্যাখ্যা নোটিশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সাথে ভুয়া বিল বাবদ উত্তোলিত ৯১,০০,০০০ (একানব্বই লাখ) টাকা অনতিবিলম্বে ফেরত প্রদানের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কোষাগারের অর্থ আত্মসাত ও যোগসাজশের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনিয়মের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।