পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জমি নামজারি ও রেকর্ড সংশোধনের নামে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং হয়রানির অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ টাকা অনৈতিকভাবে গ্রহণের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদক টিম। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর ২০২৬) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালীর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এই অভিযান পরিচালনা করে। দুদক সূত্রে জানা যায়, সেবাগ্রহীতাদের জমি নামজারি বাবদ সরকার নির্ধারিত ফি-র অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং নানা উপায়ে হয়রানি করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক টিম ছদ্মবেশে সরেজমিন ভূমি অফিস পরিদর্শন করে। এ সময় অফিস থেকে অভিযোগসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র ও সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সেবাগ্রহীতাদের জমি রেকর্ড সংশোধন করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংক হিসাব ও নগদের মাধ্যমে অনৈতিকভাবে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে কোনো 'সিটিজেন চার্টার' (নাগরিক সনদ) না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে টিম। পরবর্তীতে অফিসের সামনে দৃশ্যমান স্থানে তা সংরক্ষণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়। দুদক টিম সংগৃহীত সমস্ত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দুদকের এমন কঠোর পদক্ষেপে স্থানীয় সচেতন মহলে স্বস্তি প্রকাশ পেয়েছে।