১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দুর্গাপুরে ব্লাড ব্যাংক স্থাপন আজ লাখো মানুষের প্রাণের দাবি

দুর্গাপুরে ব্লাড ব্যাংক স্থাপন আজ লাখো মানুষের প্রাণের দাবি

নেত্রকোণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা দুর্গাপুরে বর্তমানে ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করা নাগরিকদের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।   উপজেলার লাখো মানুষের চিকিৎসায়  এখানকার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই প্রধান ভরসা। বিশেষ করে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ আর দরিদ্রদের চিকিৎসার প্রধান নির্ভরতা এটি।  তবে নানা সংকটে জর্জরিত হাসপাতালটি মানসম্মত সেবা দিতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছে। নেই কোন ব্লাড ব্যাংক। 

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন,গ্রাম এবং আশপাশের উপজেলা থেকে লাখো মানুষ এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু ব্লাড ব্যাংক না থাকায় জরুরি রক্তের প্রয়োজন মেটানো দুষ্কর হয়ে যায়। ফলে জরুরি মুহূর্তে জীবন রক্ষা করা চিকিৎসকদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।  সড়ক দুর্ঘটনা, প্রসবকালীন জটিলতা অথবা  হঠাৎ কোন অস্ত্রোপচারের সময় তাৎক্ষণিক রক্তের প্রয়োজন মেটাতে গেলে বিভিন্ন সোর্স থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে হয়। যেটি তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। রক্তের অভাবে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। 

এছাড়া থ্যালাসেমিয়া ও ক্যানসার রোগী বা  অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার মতো রোগে আক্রান্তদের নিয়মিত বিরতিতে রক্তের প্রয়োজনে তা সংগ্রহ করাও চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়। 

রোগীদের জরুরি রক্তের এ চাহিদা পূরণে বর্তমানে দুর্গাপুরে একটি ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করা অপরিহার্য বলে মনে করেন স্থানীয় নাগরিকরা। তারা বলেন, স্থানীয়ভাবে ব্লাড ব্যাংক থাকলে রোগীদের জীবনযাত্রার কষ্ট ও দুর্ভোগ অনেক কমে যায়।

দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত বছর পুরো জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা প্রদান করা হয় এই হাসপাতালে। যেটি এ বছরও অব্যাহত আছে। তবে নানা সংকট থাকায় অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা দেয়া কঠিন হয়ে যায়।

দুর্গাপুরে গত ৯ বছর ধরে নিয়মিত রক্তদান ও রক্ত সংগ্রহের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এসবি রক্তদান সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, দুর্গাপুরে একটি ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করা এখন সময়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি। দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ রক্তের প্রয়োজন হয়। আমরা প্রতিনিয়ত রক্তদান ও রক্ত সংগ্রহের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছি। 

তিনি বলেন, একটি ব্লাড ব্যাংক থাকলে রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত সরবরাহ করা আরও সহজ ও কার্যকর হতো। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে ডোনার টু ডোনার এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে রক্তের ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে অনেক অসহায় রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ কমে আসবে।

দুর্গাপুরে চিকিৎসা নিতে আসা মুদি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আমি শারিরীকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হই। তখন আমার রক্তের প্রয়োজন দেখা দেয়। ওইসময় স্থানীয় একটি সংগঠন আমাকে রক্তের ডোনার জোগাড় করে দেয়। ওই ডোনার দুর্গাপুরে হাসপাতালে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়ে যায়। এতে আমি খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। এখানে একটি ব্লাডব্যাংক থাকলে আমি প্রয়োজনের মুহূর্তেই রক্ত পেয়ে যেতাম।

স্থানীয় সংগঠক ও সাংবাদিক দিলোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, দুর্গাপুরে ব্লাড ব্যাংকের অভাবে কত রোগী যে দুর্ভোগ আর অনিশ্চয়তায় পড়েছে তার হিসাব নাই। মানুষের কষ্ট দূর করতে এখানে অবশ্যই ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করা জরুরি।

স্থানীয়রা বছর দুয়েক আগে ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেছিলেন দুর্গাপুরে। সে সময় বিভিন্ন দপ্তরে গণস্বাক্ষরসহ আবেদন পাঠানো হয়। কিন্তু এখনো কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বিষয়টিকে স্থানীয়রা খুব দু:খজনক বলে মনে করেন।

দুর্গাপুরের নানা শ্রেণী পেশার নাগরিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মানুষের চাহিদা বিবেচনায় ব্লাড ব্যাংক স্থাপন এখনই করা প্রয়োজন। তারা বলেন, নেত্রকোণা ১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার  ব্যারিস্টার কায়সার কামালই পারেন গণমানুষের দীর্ঘ বছরের এই দাবি পূরণ করতে। নাগরিকরা এ বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা দুর্গাপুরে ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকারের প্রতি।

স্থানীয়দের মতে, একটি ব্লাড ব্যাংক বদলে দিতে পারে হাজারো অসহায় রোগীর ভাগ্য।  বিপদে ভরসা হয়ে সুস্থতা দিতে পারে মানুষকে।