১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ব্রিটেনের সেরা কারি শেফদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই অনুষ্ঠিত কেমব্রিজে

ব্রিটেনের সেরা কারি শেফদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই অনুষ্ঠিত কেমব্রিজে

যুক্তরাজ্যের ১৫টি অঞ্চলের সেরা কারি শেফদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে Asian Restaurant & Takeaway Awards (ARTA) ২০২৬-এর মর্যাদাপূর্ণ ‘ন্যাশনাল শেফ অব দ্য ইয়ার’ কুক-অফ। সোমবার কেমব্রিজ রিজিওনাল কলেজে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শেফরা পেশাদার লাইভ কিচেনের চাপপূর্ণ পরিবেশে নিজেদের কারিগরি দক্ষতা, সৃজনশীলতা, স্বাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শন করেন।

কেমব্রিজ রিজিওনাল কলেজের অংশীদারত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ছিল ChefOnline। যুক্তরাজ্যের এশিয়ান হসপিটালিটি খাতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার আয়োজন ARTA-এর সপ্তম বার্ষিক বিচার কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় পর্ব ছিল এই কুক-অফ। তবে প্রতিযোগিতায় কে ‘ন্যাশনাল শেফ অব দ্য ইয়ার ২০২৬’ নির্বাচিত হয়েছেন, তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। আগামী ১২ অক্টোবর লন্ডনের Hilton on Park Lane-এ অনুষ্ঠিতব্য ARTA গ্র্যান্ড ফিনালে ও গালা ইভিনিংয়ে বিজয়ীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

জাতীয় কুক-অফের আগে যুক্তরাজ্যজুড়ে একটি বিস্তৃত মনোনয়ন ও বাছাইপ্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১,১০০টিরও বেশি রেস্টুরেন্ট ও টেকঅ্যাওয়েকে স্বীকৃতির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। খাবার ও সেবার মান, অর্থের যথার্থ মূল্য, খাদ্যস্বাস্থ্য রেটিং এবং Google ও Tripadvisor-সহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত যাচাইকৃত গ্রাহক মতামতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন করা হয়। আয়োজকেরা জানান, স্থানীয় কমিউনিটি থেকে শুরু করে কেমব্রিজের জাতীয় মঞ্চ পর্যন্ত বিস্তৃত এই বাছাইপ্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাজ্যের এশিয়ান হসপিটালিটি খাতে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখা প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের খুঁজে বের করা এবং তাঁদের কাজকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা।

প্রতিযোগীদের কিং প্রন, র‍্যাক অব ল্যাম্ব, চিকেন, সি ব্রিম, মৌসুমি সবজি, ডালজাতীয় উপকরণ, তাজা হার্বস ও বিভিন্ন মসলাসহ উন্নতমানের তাজা উপকরণ সরবরাহ করা হয়। নির্ধারিত কোনো রেসিপি অনুসরণ না করে এসব উপকরণ দিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ও রন্ধনশৈলী অনুযায়ী মৌলিক পদ তৈরি করতে বলা হয়। এই উন্মুক্ত পদ্ধতি প্রতিযোগীদের ব্যক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং স্বতন্ত্র রন্ধনদর্শন তুলে ধরার সুযোগ দেয়। স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা, কারিগরি দক্ষতা, উপকরণের অভিনব ব্যবহার, সৃজনশীলতা, পরিবেশন, স্বাদের ভারসাম্য, খাবারের গঠন এবং সুগন্ধ—এসব বিষয়ের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন বিচারকেরা।

প্রতিযোগীদের তৈরি খাবার মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন পেশাদার রান্নাঘর, রন্ধনশিক্ষা এবং ব্যবসায়িক নেতৃত্বে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা। বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন কেমব্রিজ রিজিওনাল কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট হেড অব ডিপার্টমেন্ট অ্যান্ড কমার্শিয়াল লিড গ্রাহাম টেইলর; এক্সিকিউটিভ শেফ এবং Craft Guild of Chefs ও Chaîne des Rôtisseurs-এর সদস্য চ্যাড রহমান; কলেজটির প্রফেশনাল শেফ ডিপ্লোমার কোর্স লিড লরেন গ্রেগ এবং রেস্টুরেটর ও করবির সাবেক মেয়র মুজিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে কেমব্রিজ রিজিওনাল কলেজের শিক্ষার্থীরাও নিজেদের রন্ধন প্রতিভা প্রদর্শন করেন। তাঁরা আগত শেফ ও অতিথিদের জন্য লবস্টারের পদ তৈরি ও পরিবেশন করেন। আয়োজকদের মতে, এই সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত শিল্পনেতা এবং উদীয়মান পেশাজীবীদের একই মঞ্চে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে হসপিটালিটি খাতের টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং শিল্পের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

একাধিক বড় রন্ধন প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করা এক্সিকিউটিভ শেফ চ্যাড রহমান আয়োজন এবং প্রতিযোগীদের দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আমি বহু বছর ধরে এই শিল্পের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু প্রতিযোগীদের জন্য এত বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় উপকরণ সরবরাহ করতে আমি মাত্র দ্বিতীয়বার দেখলাম।” তিনি বলেন, উপকরণ নির্বাচনের স্বাধীনতা একজন শেফকে স্বাদের ভারসাম্য রক্ষা, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং চাপের মধ্যে নতুন কিছু তৈরির সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ দিয়েছে। চ্যাড রহমান আরও বলেন, “বিভিন্ন অঞ্চলের শেফদের তৈরি বৈচিত্র্যময় পদ ও নতুন ধারণাগুলো সত্যিই অত্যন্ত চমৎকার ছিল।” ARTA সম্পর্কে তিনি বলেন, আয়োজনটি প্রতি বছর বিকশিত হয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। শেফদের উৎসাহ দেওয়া, পেশাগত মান উন্নত করা এবং শ্রেষ্ঠত্ব উদ্‌যাপনে ARTA-এর অঙ্গীকার প্রশংসনীয়।

কেমব্রিজ রিজিওনাল কলেজের গ্রাহাম টেইলর বলেন, “আজ আমরা যে মানের কাজ দেখেছি, তা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। একজন দক্ষ শেফের জন্য শুধু ভালো রান্না করতে পারাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কারিগরি দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সংগঠিতভাবে কাজ করার ক্ষমতা, ধারাবাহিকতা এবং উপকরণ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান।” তিনি বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা শেফদের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের যোগ্যতা প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পুরো হসপিটালিটি খাতের পেশাগত মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখে।

ARTA-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মুনিম বলেন, “আমাদের শেফরাই যুক্তরাজ্যের এশিয়ান হসপিটালিটি খাতের প্রাণ। প্রতিটি সফল রেস্টুরেন্ট বা টেকঅ্যাওয়ের পেছনে এমন মানুষ রয়েছেন, যাঁদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতা জাতীয় পর্যায়ে উদ্‌যাপিত হওয়ার যোগ্য। এই কুক-অফ ঠিক সেই সুযোগটিই সৃষ্টি করেছে।” তিনি বলেন, এশিয়ান রেস্টুরেন্ট ও টেকঅ্যাওয়েগুলো ব্রিটিশ খাদ্যসংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতের সাফল্যের জন্য দক্ষতায় বিনিয়োগ, পেশাগত মান বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মকে হসপিটালিটি খাতকে সম্মানজনক ও সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে গ্রহণে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। কেমব্রিজ রিজিওনাল কলেজের সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রসঙ্গে ড. মুনিম বলেন, এর মাধ্যমে অভিজ্ঞ পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের একত্র করা সম্ভব হয়েছে, যা হসপিটালিটি শিল্পের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

সপ্তম বছরে পদার্পণ করা Asian Restaurant & Takeaway Awards বা ARTA ব্যাপকভাবে ‘কারি শিল্পের অস্কার’ নামে পরিচিত। যুক্তরাজ্যের এশিয়ান রেস্টুরেন্ট ও টেকঅ্যাওয়ে খাতে শ্রেষ্ঠত্ব, উদ্ভাবন এবং অসাধারণ সেবাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় আয়োজন। ARTA ভোজনরসিকদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মানিত করার পাশাপাশি রন্ধনশৈলী, উদ্ভাবনী ধারণা এবং অসাধারণ গ্রাহকসেবাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরে।

আগামী ১২ অক্টোবর লন্ডনের Hilton on Park Lane-এ অনুষ্ঠিত ARTA ২০২৬ গ্র্যান্ড ফিনালে ও গালা ইভিনিংয়ে ‘ন্যাশনাল শেফ অব দ্য ইয়ার’-এর নাম ঘোষণার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও জাতীয় বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ীদেরও পুরস্কৃত করা হবে।

এবারের আয়োজনকে সহযোগিতা করছে DNA Payments, Super Pollo, Cobra Beer, Work Permit Cloud, NRB Bank, Square Mile Insurance, Finology Finance Broker এবং Madhu’s।