৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

লন্ডনের মাটিতে এক টুকরো জগন্নাথপুরের হাওড় ধানক্ষেত (বাংলাদেশ)

লন্ডনের মাটিতে এক টুকরো জগন্নাথপুরের হাওড় ধানক্ষেত (বাংলাদেশ)

 

লন্ডনের ঠান্ডা আবহাওয়া ও কংক্রিটের নগরজীবনের মধ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশি শেফ আজম খান। মাত্র ১০ ফুট বাই ৫ ফুট জায়গায় ধান চাষ করে তিনি দেখাচ্ছেন, উপযুক্ত পরিকল্পনা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কাজে লাগালে যুক্তরাজ্যের মাটিতেও ধান চাষের সম্ভাবনা রয়েছে।

লন্ডনের একটি ছোট্ট জায়গায় বর্তমানে বেড়ে উঠছে ধানের চারা। সাধারণভাবে ধান চাষের সঙ্গে বাংলাদেশের উষ্ণ আবহাওয়া, পর্যাপ্ত পানি ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমির সম্পর্ক থাকলেও লন্ডনের ভিন্ন আবহাওয়ায় এই উদ্যোগটি নতুন সম্ভাবনার দিক তুলে ধরছে।

এই পরীক্ষামূলক ধান চাষে আজম খানকে বৈজ্ঞানিক সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী। তাঁদের লক্ষ্য, সীমিত জায়গা ও ভিন্ন জলবায়ুর মধ্যে ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের চাষ আরও বড় পরিসরে করা যায় কি না, তা যাচাই করা।

বর্তমানে পরীক্ষাটি মাত্র ১০ ফুট বাই ৫ ফুট জায়গায় সীমাবদ্ধ। তবে সফলতা পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় জায়গায় ধান চাষের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

আজম খানের এই উদ্যোগের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি ও সংস্কৃতির একটি বিশেষ সম্পর্কও রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের কাছে ধান শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য নয়; গ্রামীণ জীবন, কৃষি ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও এটি গভীরভাবে জড়িত। সেই ধানের চাষই এবার পরীক্ষামূলকভাবে জায়গা করে নিয়েছে লন্ডনের মাটিতে।

আবেদ চৌধুরীর বৈজ্ঞানিক পরামর্শ এবং আজম খানের বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে এই উদ্যোগটি মূলত একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। লন্ডনের জলবায়ুতে ধানের বৃদ্ধি, ফলন এবং চাষের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা কতটা সম্ভব তা নির্ভর করবে পরবর্তী পর্যায়ের ফলাফলের ওপর।

মাত্র ৫০ বর্গফুট জায়গার এই উদ্যোগ এখন ছোট পরিসরের হলেও এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ধানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পরীক্ষাটি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ধান চাষের পথ তৈরি হতে পারে।

লন্ডনের মাটিতে ধানের এই চাষ তাই শুধু একটি কৃষি পরীক্ষা নয়; ভিন্ন জলবায়ু ও পরিবেশে বাংলাদেশি কৃষি প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা প্রয়োগের একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।