৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জমি বিরোধের জেরে ৭ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম ​

জমি বিরোধের জেরে ৭ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম ​

বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় একই পরিবারের সাতজন গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট থানাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এজাহার হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
​স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ (বুধবার) সকাল ৯:৩০ মিনিটে আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চুনাখালী ঈদগাহ সংলগ্ন মাঠের পাশের জমিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পঁচিশ থেকে ত্রিশজনের একটি সশস্ত্র দল রামদা, বগি, ছেনা, চাপাতি ও লাঠিসোটা নিয়ে স্থানীয় এক পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন—মিজানুর গাজী, তার ছেলে তামিম গাজী, রাজিয়া বেগম, ফাতেমা বেগম, হাবিব গাজী, রুহুল আমিন গাজী ও ইউসুফ গাজী।
​হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী মিজানুর গাজী বলেন, "আমি মাঠের কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম। হঠাৎ দেখতে পাই আমার ছেলে তামিম গাজীর চিৎকারের শব্দ। এগিয়ে গিয়ে দেখি বাবুল প্যাদা ও রেজা প্যাদা তাকে বগি দা দিয়ে কোপাচ্ছে এবং পেটাচ্ছে। আমি বাধা দিতে গেলে আজিজ প্যাদা ও কামাল প্যাদা আমার ওপরও হামলা চালায়।"
পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরানো অপর ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, "ভাতিজা তামিমকে বাঁচাতে গেলে মিজানুর রহমান, মাসুদ হাওলাদার, লতিফ হাওলাদার ও রিয়াজ হাওলাদার আমার পোশাক টেনে ছিঁড়ে বিবস্ত্র অবস্থায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে।"
​আরেক ভুক্তভোগী রাজিয়া বেগম জানান, স্বামী মিজানুর গাজীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে রিয়াজ হাওলাদার, আবু বকর হাওলাদার, মোসাঃ শিরিন আক্তার ও আকলিমা আক্তার তাকেও এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

এমনকি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও আসামিরা প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারটি দাবি করেছে।

এ বিষয়ে আমতলী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (ক্রমিক নং ২৬৩৬৭) মামলা দায়ের করা হলে, বিজ্ঞ আদালত বিষয়টিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার জন্য আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াকুব হোসাইন জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের অভিযোগ ও মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।