২৪ আগস্ট, ২০২৬

ফাইলের অনুসন্ধানে গেলেই নারী লাঞ্ছনার ভুয়া ব্লেম ও মোবাইল কোর্টের হুমকি !

ফাইলের অনুসন্ধানে গেলেই নারী লাঞ্ছনার ভুয়া ব্লেম ও মোবাইল কোর্টের হুমকি !

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের সেবা সহজীকরণ ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রতিষ্ঠিত ‘ফ্রন্ট ডেস্ক’ এখন সেবাগ্রহীতাদের জন্য চরম হয়রানি ও আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে।
 গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র গায়েব হয়ে যাওয়া এবং এর প্রতিবাদ করলে উল্টো ‘নারী লাঞ্ছনা’র ব্লেম (অপবাদ) দিয়ে মোবাইল কোর্টে আটকের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের ফ্রন্ট ডেস্কে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই (২০২৬) জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে একটি লিখিত অভিযোগ ফ্রন্ট ডেস্কে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অভিযোগের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থা জানতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস কক্ষের সামনে  দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ফাইলটি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পৌঁছায়ইনি!

​পরবর্তীতে এডিসি (সার্বিক), এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং ডিডিএলজি (উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার) দপ্তরের অফিসিয়াল রেজিস্টার খাতা ঘন্টাব্যাপী  পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ফ্রন্ট ডেস্কে জমা পড়া অভিযোগটি কোনো দপ্তরেই পাঠানো হয়নি।

ফাইল গায়েবের এই রহস্যজনক বিষয়ে পুনরায় ফ্রন্ট ডেস্কে জানতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সেখানে দায়িত্বরত কর্মচারীরা। অভিযোগের বিষয়ে বেশি 'বাড়াবাড়ি' করলে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে তাৎক্ষণিক জেলে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয় সেবাগ্রহীতাকে। 

 একপর্যায়ে ফ্রন্ট ডেস্কের কর্মচারীরা বিষয়টি নিয়ে ডেসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত মূল তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল-হাসীব মোঃ তাসফিকুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
​পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা আল-হাসীব মোঃ তাসফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ঘটনাটি জানালে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট সমাধান না দিয়ে উল্টো দাবি করেন, ফ্রন্ট ডেস্কে দায়িত্বরত এক নারী কর্মকর্তার সাথে নাকি 'অশ্লীল আচরণ' করা হয়েছে!
​তবে ঘটনার সত্যতা প্রমাণের জন্য ফ্রন্ট ডেস্কের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পরীক্ষা ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হলে ম্যাজিস্ট্রেট হাসীব তাৎক্ষণিকভাবে সুর নরম করেন এবং বলেন— "থাক, এ বিষয় নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই।" কোনো তদন্ত ছাড়াই একজন সেবাগ্রহীতার ওপর সরাসরি ‘নারী অপবাদ’ (মহিলা ব্লেম) দেওয়ার এমন জঘন্যতম কাজ শুনে অবাক হয়েছেন পটুয়াখালীর বাসিন্দারা  ।
​
​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু এটিই প্রথম নয় এর আগেও জেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য ভুক্তভোগী ফ্রন্ট ডেস্কে ফাইল জমা দিয়ে তা গায়েব হয়ে যাওয়ার শিকার হয়েছেন। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযোগ জমা পড়লে একটি বিশেষ চক্র দুঃস্কৃতি কারীদের সাথে আঁতাত করে স্বার্থের বিনিময়ে তা আড়াল করে ফেলে যাতে জেলা প্রশাসক এর নিকট বিষয়টি না পৌছায়  এবং পরবর্তীতে ফাইল খুঁজতে গেলে ভুক্তভোগীদের হেনস্তা করতে ‘মহিলা লাঞ্ছনা’র মতো স্পর্শকাতর ব্লেম ও সাজানো মোবাইল কোর্টের ভয় দেখানো হয়।

​জেলা প্রশাসকের নাকের ডগায় বসে ফ্রন্ট ডেস্কের এহেন প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, ফাইল গায়েব এবং নারী অপবাদ দিয়ে প্রশাসনিক ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিক ও ভুক্তভোগী মহল।