চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। একইসঙ্গে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ, আহতদের সুচিকিৎসা এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে দলটি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সিপিবির সভাপতি কমরেড কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন এবং সাধারণ সম্পাদক কমরেড আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন এক বিবৃতিতে বলেন, ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর গত ছয় মাসে অনিয়ম সংশোধনে একাধিকবার চিঠি প্রেরণ করেছে। কিন্তু কোন এক মহাক্ষমতাবলে প্রতিষ্ঠানটি সেসবের তোয়াক্কাই করেনি। শ্রমিকদের জীবনের বিনিময়ে যার মূল্য দিতে হয়েছে। আর এখন সেইসব অনিয়মের মাশুল গুনতে হচ্ছে নিহত শ্রমিকদের পরিবার ও স্বজনদের।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পে শ্রমিকের নিরাপত্তাহীনতা নতুন কোনো বিষয় নয়। বিষাক্ত গ্যাস, অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ, ভারী বস্তুতে আঘাতসহ নানা ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের কাজ করতে হচ্ছে। কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগও উঠেছে। এরপরও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রাখা হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ ও তদারকি কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন না করে কেবল তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় শেষ করা যাবে না। তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন কিংবা শ্রমিকের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার প্রতিটি ঘটনায় মালিকপক্ষসহ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শ্রমিকদেরকে নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পরিবর্তে বারো ঘন্টার বেশি সময় পর্যন্ত কাজ করানোর যে অভিযোগ তার সত্যতা সকলের জানা। এই অন্যায় যেন কোনো কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংঘটিত না হয় সেজন্য সরকারের যা করণীয় তা নিশ্চিত করতে হবে। শ্রম পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সিপিবি অবশ্যই সরকারের সাথে রাজপথে সে বিষয়ে বোঝাপড়া করে নিবে বলে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দেন ।
সিপিবি নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি নিহত শ্রমিকদের মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর, দাফন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগিতা এবং নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে যথাযথ ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, আহত শ্রমিকদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা এবং চিকিৎসার ব্যয় সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষকে বহন করতে হবে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জাহাজভাঙা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শ্রমিকের জীবন ও স্বাস্থ্য বিসর্জন দিয়ে কোনো শিল্পের বিকাশ গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে উৎপাদন ব্যয়ের অতিরিক্ত বোঝা হিসেবে নয়, শ্রমিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ নিহত ৯ শ্রমিকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দেশের সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।