পটুয়াখালী পৌরসভার দৃষ্টিনন্দন ঝাউতলা ওয়াকওয়েকে অবৈধ দখলদার ও চাঁদাবাজমুক্ত করে তার আসল নান্দনিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে এনেছেন পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ জুয়েল রানা।
তাঁর এই সময়োপযোগী ও বিচক্ষণ পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পৌরবাসীসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ঝাউতলার সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে ভাসমান ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে পৌর কর্তৃপক্ষ ১২১টি ভাসমান দোকানের অনুমোদন দিয়েছিল। শর্ত ছিল, ওয়াকওয়ে থেকে অন্তত ৩০ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। তবে একশ্রেণীর অসাধু চক্র ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠী সেই নির্দেশনা অমান্য করে এলাকাটিকে একপ্রকার বিশৃঙ্খল বাজারে পরিণত করে।
অভিযোগ রয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে আসা লোকজনকে দৈনিক নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদার বিনিময়ে ওয়াকওয়ের মূল যাতায়াতের রাস্তায় বসানো হতো। ফলে জুতা, কাপড়ের দোকান থেকে শুরু করে নানা পশরা সাজিয়ে চলাচলের পথ পুরোপুরি রুদ্ধ করে ফেলা হয়, যা ধ্বংস করে দেয় ঝাউতলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক মোঃ জুয়েল রানা কোনো প্রকার আপস না করে অবিলম্বে উচ্ছেদ অভিযানের নির্দেশ দেন। অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর ও সফল অভিযানে ওয়াকওয়েটি দখলমুক্ত হয় এবং তার হারিয়ে যাওয়া নান্দনিক রূপ ফিরে পায়।
উচ্ছেদ অভিযান পরবর্তী সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াকওয়েটি এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়ন থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা হেলাল মিয়া বলেন, "গত ১২-১৩ দিন আগেও এখানে আসলে মনে হতো কোনো মাছের বাজারে এসেছি। হেঁটে যাওয়ার মতো পরিবেশ ছিল না। এখন এসে খুব ভালো লাগছে, ওয়াকওয়ের আসল রূপ ফিরে এসেছে। পৌর প্রশাসক স্যারকে অসংখ্য ধন্যবাদ।"
স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি—সবাই এখন প্রশাসক মোঃ জুয়েল রানার এই বলিষ্ঠ ও বিচক্ষণ সিদ্ধান্তের প্রশংসায় মুখর। তাঁদের প্রত্যাশা, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বে ও তিনি পটুয়াখালীকে একটি আধুনিক ও সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তোলার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এবং দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ' I love Patuakhali' মনুমেন্ট ও সেলফি পয়েন্টের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নেও সরাসরি অবদান রয়েছে মোঃ জুয়েল রানার। স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক পদের পাশাপাশি পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে তাঁর এই দায়িত্বশীল ও গতিশীল নেতৃত্বে পটুয়াখালী পৌরসভা এখন সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও পরিপাটি বলে বিভিন্ন সময়ে পৌরসভার বাসিন্দারা বলাবলি করেন ।