২৮ জুলাই, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেরার পথে অপহরণের শিকার ডুয়েট শিক্ষার্থী, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এর স্থাপত্য বিভাগের তৃতীয় বর্ষ (দ্বিতীয় সেমিস্টার) শিক্ষার্থী আরিফুল হক নাহিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ বাড়িতে ফেরার পথে অপহরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপহরণকারীরা তার সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল ফোন, একটি আইফোন, একটি ল্যাপটপ ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার।

পরিবার ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নাহিদ ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে নরসিংদীর শিবপুর এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাকে অপহরণ করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল ফোন, একটি আইফোন, একটি ল্যাপটপ ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনেরও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অপহরণের পর দুর্বৃত্তরা নাহিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে বিকাশ ও নগদ-এর মাধ্যমে অপহরণকারীদের দেওয়া নম্বরে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাহিদকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ওই রাতেই নাহিদের বড় ভাই বাদী হয়ে নরসিংদীর শিবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে বলে পরিবার জানিয়েছে।

বর্তমানে নাহিদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, নির্যাতনের কারণে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বিশ্রামে রয়েছেন।

এদিকে, এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডুয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন নাহিদের পরিবার এবং সহপাঠীরা।