রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের আমখার গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত নুরুদ্দিন ওই গ্রামের সোহেল মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির পাশের একটি জমিতে মাছ ধরতে যায় নুরুদ্দিন। মাছ ধরার একপর্যায়ে ঝোপঝাড়ের ভেতর থেকে একটি বিষধর সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। প্রথমদিকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বুঝতে না পারায় কিছুটা সময় নষ্ট হয়। তবে শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
নিহতের বাবা সোহেল মিয়া জানান, ছেলেকে সাপে কামড় দেওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার বাবা-মা (শিশুটির দাদা-দাদি) নুরুদ্দিনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকে স্তব্ধ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। সাপে কামড়ের পর কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক, কুসংস্কার বা বিলম্ব না করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে এলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে, শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে আমখার গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, নুরুদ্দিন ছিল চঞ্চল ও সবার প্রিয় একটি শিশু। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী গভীরভাবে শোকাহত।