১ জানুয়ারি, ১৯৭০

তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় পেটালেন সালাহউদ্দিন আম্মারসহ শিবির নেতারা

তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় পেটালেন সালাহউদ্দিন আম্মারসহ শিবির নেতারা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে প্রথম দফা এবং পরে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে আরও কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আনাস ও হাসিব এবং সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগে বলা হয়, সহপাঠী মহসিন আলম প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রক্টরের দপ্তরে বৈঠকে মহসিনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল। বৈঠকে একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

                                                          

                                                                কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে ঢুকে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করছেন শিবির ও রাকসু নেতারা

পরদিন প্রক্টরের দপ্তরে আরেকটি বৈঠকে রাকসুর নেতারা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ করেন। তাঁর মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে ছবি দেখিয়ে তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলে সবাইকে প্রক্টর কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এর কিছু সময় পর রাকসু ভবনের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ বাধে। রাকসুর দাবি, আনাস, হাসিব ও মাহমুদুলসহ কয়েকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান, এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব আহত হন।

পরবর্তীতে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে আশ্রয় নিলে সেখানে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা প্রবেশ করে তাঁদের লাঠি, রড, বাঁশ ও বেল্ট দিয়ে মারধর করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ। হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থীও মারধরের শিকার হন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার পর আহত মাহমুদুল হাসানকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এদিকে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ‘ছাত্রলীগের বিচার’ দাবিতে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

                                                                        অ্যাম্বুলেন্স থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে এক শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি লাথি ও মারধর করেন রাকসু ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা।সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে

প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান, ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আনাস ও হাসান নামে দুজনকে পুলিশ আটক করেছে। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্তে উপাচার্য দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন বলে তিনি জানান।

হামলার বিষয়ে আনাস দাবি করেন, অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত বন্ধুদের সঙ্গে ছবি থাকলেও তিনি ছাত্রলীগের কর্মী নন। তাঁর অভিযোগ, প্রক্টরের দপ্তরে এবং পরে গ্রন্থাগারের ভেতরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে।

অন্যদিকে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেন, তাঁরা আনাসকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে পরে আনাস ও তাঁর সহযোগীরা রাকসু ভবনের সামনে তাঁদের ওপর হামলা চালালে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সংগঠন হিসেবে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন রাকসু ও শিবির-সমর্থিত নেতাকে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী দাবি করেন, একটি ব্যক্তিগত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে গ্রন্থাগারের মতো শিক্ষাঙ্গনে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।