ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চলমান আলিম পরীক্ষা-২০২৬-এ নকলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। পরীক্ষা চলাকালে নকলে সহযোগিতার অভিযোগে এক শিক্ষককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে পাঁচ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিল কবির পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে রানিখার এমদাদুল বাড়ি আলিম মাদরাসার শিক্ষক মুহাম্মদ মনির হোসেনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে হাতে লেখা এমসিকিউ (MCQ) উত্তরের একটি কাগজ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ঘটনাটি তদন্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিশ্চিত হয় যে, ওই শিক্ষক পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকা পাঁচজন পরীক্ষার্থীকে নকল করতে সহযোগিতা করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পাঁচ পরীক্ষার্থীকে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকেই বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার বিধিমালা অনুযায়ী চলতি বছরের আলিম পরীক্ষার অবশিষ্ট সব বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকেও তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, শিক্ষক মুহাম্মদ মনির হোসেনের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী মামলা আমলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিল কবির বলেন, পাবলিক পরীক্ষার সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন কিংবা নকলে সহযোগিতার মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতেও প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশাসনের নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাবলিক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে নকল প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।