২৪ জুলাই, ২০২৬

শ্রীমঙ্গলের ৪ নং সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডে জায়গা-জমি বিরোধে সালিশেও মেলেনি সমাধান, থানায় লিখিত অভিযোগ

শ্রীমঙ্গলের ৪ নং সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডে জায়গা-জমি বিরোধে সালিশেও মেলেনি সমাধান, থানায় লিখিত অভিযোগ

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৪ নং সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই সহোদর ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারী পক্ষ।

সালিশে পঞ্চায়েত সর্দার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাবলু মিয়া (পিতা: মৃত আলফি), জাহির মিয়া (পিতা: মৃত আব্দুল গনি) এবং আনোয়ার মিয়া (পিতা: জহুর আলী)। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাসির মিয়া (পিতা: নুরুল) ও মইনুল মিয়া (পিতা: জাহির মিয়া)। এছাড়া ৪ নং সিন্দুরখান ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য তারেক (পিতা: সুজন মিয়া) এবং শ্রীমঙ্গল থানার এসআই হানিফ উপস্থিত থেকে উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানান।

অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, সালিশ চলাকালে এসআই হানিফের উপস্থিতিতে অভিযুক্তরা আইন মেনে চলার এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে সম্মতি প্রকাশ করেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা সালিশস্থল ত্যাগ করার পর তারা পুনরায় উত্তেজিত আচরণ শুরু করেন এবং পূর্বের অবস্থানে ফিরে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়, ১ নম্বর অভিযুক্ত মশাইদ আলী ও ২ নম্বর অভিযুক্ত শওকত আকবর সালিশের সিদ্ধান্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া মেনে চলতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগকারী সোনাহর আলী বলেন, "আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই। যেকোনো সময় অভিযুক্তরা আমার, আমার স্ত্রী কিংবা সন্তানদের ক্ষতি করতে পারে—এমন আশঙ্কায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। আমার চাচার বয়স প্রায় ৯৫ বছর। তিনি ঘটনার বিষয়ে সত্য বক্তব্য দিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সত্য কথা বলার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। অভিযুক্তরা আইন ও সালিশের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন না। পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তারা আইন মেনে চলার আশ্বাস দিলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে যান। তাই আমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং আমার পরিবার ও প্রবীণ চাচার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"

অভিযোগকারী পক্ষ আরও দাবি করেন, অতীতে অভিযুক্তরা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘদিনের এ বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান নিশ্চিত করবে।