জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফেরেন, তবে তা হবে তাঁর বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের জন্য।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ন্যাশনাল এসএমই অ্যাসোসিয়েশন।
রয়টার্সে প্রকাশিত শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে তাঁর ভাষ্য, "বাংলাদেশ সরকারকে যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে ঘোষিত রায় কার্যকর করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে দেশে ফিরবেন বা আত্মসমর্পণ করবেন—সেটি তিনি নিজে নির্ধারণ করবেন না। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁকে দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের দাবি, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় কার্যকর হলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার যদি এ বিষয়ে অন্য কোনো পথ অনুসরণ করে, তাহলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক হবে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলো দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি রক্ষায় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টা হলে এবং সরকার সেটিকে প্রশ্রয় দিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সরকার নিজেই।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে সরকারও ভাবছে বলে জানা গেছে এবং তাঁর মতে, এটিই সঠিক পথ। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায় দ্রুত কার্যকর করারও দাবি জানান তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীদের রেখে ভারতে চলে গেছেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ একটি স্বাধীন রাজনৈতিক দল নয়; বরং দিল্লির প্রভাবেই দলটির সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়। ফলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বা বিচার প্রক্রিয়ার বিষয়টি মূলত ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার রায় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর মতে, এ রায় ট্রাইব্যুনাল ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করেছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না আসায়ও তিনি সমালোচনা করেন।