৩ জুলাই, ২০২৬

মৎস্য খামার হয়ে উঠলো অশ্লীল ভিডিও তৈরির গোপন আস্তানা, পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৮

মৎস্য খামার হয়ে উঠলো অশ্লীল ভিডিও তৈরির গোপন আস্তানা, পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৮

মৎস্য খামারে মাছ চাষের আড়ালে নির্জন পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে চলছিলো নানা অপকর্ম। অজ্ঞাতনামা নারীদের সেখানে নিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হতো। পরে তা ছড়িয়ে দেয়া হতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এই অপকর্ম চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

নেত্রকোণার পূর্বধলায় একটি মৎস্য খামারে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয় । এসময় আসামিদের কাছ থেকে ১০টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। এসব ফোনে  শতাধিক অশ্লীল ভিডিও সংরক্ষিত ছিল। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো- পূর্বধলা থানার শিবপুর গ্রামের সাদির আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩০), তোতা মিয়ার ছেলে মো. শুভ (২০), দুলু মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া (২০) ও জুয়েল মিয়া (৩২), সাদির আলীর ছেলে মজিজুল (২৫) এবং মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে কাজল মিয়া (২০)। এছাড়া একই থানার মেঘশিমুল গ্রামের মৃত আমজত আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান হাবি (৪০) এবং সালমাকান্দা গ্রামের আব্দুল গফুরের মেয়ে মোছা. মনিরা আক্তার (৩০)।

নেত্রকোণা জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম কর্তৃক প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিবপুর এলাকায় টাঙ্গাইল জেলার এলেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শাফি খানের মালিকানাধীন ‘টাঙ্গাইল ফিশারী’ নামক মৎস্য খামারে দীর্ঘদিন ধরে এমন অপকর্ম চলছিল। চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন অজ্ঞাতনামা নারীদের সেখানে নিয়ে গিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করত এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিত।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, ফিশারিতে চক্রের সদস্যরা কয়েকজন নারীসহ আবারও অশ্লীল ভিডিও ধারণের কাজ করছে। খবর পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পূর্বধলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান (পিপিএম) এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে ওই ফিশারিতে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে সাত জন পুরুষ এবং একজন নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অজ্ঞাতনামা আরও দুজন নারী এবং ছয়-সাত জন পুরুষ সহযোগী দৌড়ে পালিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জব্দকৃত ১০টি মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখতে পায়, ২০২৫ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত চক্রটি শতাধিক অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে তাদের ফোনে সংরক্ষণ করে রেখেছে।

নেত্রকোণা জেলা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিসহ পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বধলা থানায় প্রচলিত আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।