২ জুলাই, ২০২৬

কেইনের জোড়া গোলে কঙ্গোকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ড

কেইনের জোড়া গোলে কঙ্গোকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। তবে নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই আফ্রিকার উদীয়মান শক্তি ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয় থ্রি লায়ন্সকে। এক গোল পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে দেখা যায় ডিআর কঙ্গোকে। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটেই ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্রায়ান সিপেঙ্গা গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর ইংল্যান্ড বলের দখল বাড়ালেও ডিআর কঙ্গোর সংগঠিত রক্ষণ এবং গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রথমার্ধে সমতায় ফিরতে পারেনি।

                                                                                                                                সমতায় ফেরানোর নায়ক হ্যারি কেইনকে ঘিরে ইংলিশ ফুটবলারদের উচ্ছ্বাস

প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেও হতাশ হতে হয় ইংলিশ ফরোয়ার্ডদের। জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকা ও ফিল ফোডেন আক্রমণে সক্রিয় থাকলেও শেষ মুহূর্তে ডিআর কঙ্গোর রক্ষণ তাদের হতাশ করে। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। কোচ থমাস টুখেলের কৌশলগত পরিবর্তনের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় থ্রি লায়ন্স। একের পর এক আক্রমণের পর ৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন।

সমতাসূচক গোলের পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ৮৬তম মিনিটে আবারও আঘাত হানেন কেইন। ডিআর কঙ্গোর রক্ষণভাগের একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইংল্যান্ড।

                                                                                                                     যে শটে দ্বিতীয় গোল করেছেন হ্যারি কেইন

ম্যাচজুড়ে ডিআর কঙ্গো সাহসী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল উপহার দেয়। তুলনামূলক কম শক্তিশালী দল হয়েও তারা ইংল্যান্ডকে দীর্ঘ সময় চাপে রেখেছিল। গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি একাধিক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। আক্রমণে ব্রায়ান সিপেঙ্গা, নাথানায়েল এমবুকু ও ইয়োয়ান উইসা ইংল্যান্ডের রক্ষণকে বেশ কয়েকবার ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন।

অন্যদিকে, জয় পেলেও ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নকআউট পর্বে আরও কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে হলে এসব দুর্বলতা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে হবে থমাস টুখেলের দলকে।

এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ড শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে, কারণ জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করবে।

অন্যদিকে, ডিআর কঙ্গোর জন্য বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলেও তাদের পারফরম্যান্স ফুটবলবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলেই শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে দীর্ঘ সময় চাপে রাখা আফ্রিকার দলটির জন্য ভবিষ্যতের বড় সম্ভাবনার বার্তা হয়ে থাকবে। সাহসী লড়াই, সংগঠিত রক্ষণ এবং আত্মবিশ্বাসী ফুটবল ডিআর কঙ্গোকে আগামী আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে আরও ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।