২৭ জুন, ২০২৬

ইতালিতে বাংলাদেশি পরিবারের তিনজনকে হত্যা, নোয়াখালীর বাড়িতে মাতম

ইতালিতে বাংলাদেশি পরিবারের তিনজনকে হত্যা, নোয়াখালীর বাড়িতে মাতম

ইতালিতে বাংলাদেশি একটি পরিবারের তিন সদস্যকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত নয়টার দিকে রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্যাসালোত্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একই পরিবারের আরও এক সদস্যকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে। তাঁরা হলেন ওই এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন ওরফে বাবুল (৩৯), তাঁর স্ত্রী আরজু আক্তার (৩৮) ও মেয়ে আরিশা (৫)। আহত হয়েছেন কামাল উদ্দিনের ছেলে অয়ন (২০)। তাঁকে রোমের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিংবা এর পেছনে কারা জড়িত, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমাদের জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

ইউনুছ সুমন, নিহত কামালের চাচাতো ভাই।

একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হওয়ার খবরে তাঁদের নোয়াখালীর বাড়িতে শোকের মাতম চলছে। দূরদূরান্ত থেকে স্বজনেরা ছুটে আসছেন বাড়িটিতে। স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে পরিবারের সদস্যরা তিনজন নিহতের খবর পান। এর পর থেকে বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে। নিহত কামাল উদ্দিনের বৃদ্ধ বাবা সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও মা জাহানারা বেগম (৬০) আহাজারি করতে করতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। একমাত্র ভাইকে হারিয়ে শোকে কাতর নিহত কামালের পাঁচ বোন।

নিহত কামালের চাচাতো ভাই ইউনুছ সুমন প্রথম আলোকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এরপর ইতালিতে অবস্থানরত আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে খুনের বিষয়টি নিশ্চিত হন।

ইতালিতে থাকা স্বজনেরা জানিয়েছেন, গতকাল স্থানীয় সময় রাত নয়টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরেন কামাল। তাঁর পেছনে কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাসায় ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কামাল, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের কোপাতে থাকে। ঘটনাস্থলেই কামাল, তাঁর স্ত্রী আরজু আক্তার ও মেয়ে আরিশার মৃত্যু হয়। প্রতিবেশীর চিৎকার শুনে এগিয়ে গিয়ে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ছেলে অয়নকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বাবা কামাল উদ্দিনের সঙ্গে মেয়ে আরিশা

বাবা কামাল উদ্দিনের সঙ্গে মেয়ে আরিশা

ছবি: পরিবারের সৌজন্যে

ইউনুছ সুমন বলেন, ‘কী কারণে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কিংবা এর পেছনে কারা জড়িত, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমাদের জানা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে কামাল উদ্দিন ইতালি যান। ২০২৪ সালে দেশে এসে পরিবারকেও সেখানে নিয়ে যান তিনি। সর্বশেষ গত বছর দেশে এসেছিলেন কামাল।

জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি শুনেছি। নিহত ব্যক্তিদের গ্রামের বাড়িতে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছেন। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।