২৬ জুন, ২০২৬

যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, নতুন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মিলনমেলায় মুখর সমাবেশ

যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, নতুন ও প্রবীণ নেতৃত্বের মিলনমেলায় মুখর সমাবেশ

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। এ উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনের দ্য রয়েল রিজেন্সি হলে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল সমাবেশ, যেখানে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলীয় নেতাকর্মী, সহযোগী সংগঠনের সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা হাতে র‍্যালিতে অংশ নেন। র‍্যালি শেষে সবাই সমাবেশস্থলে যোগ দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশাত্মবোধক গান, স্লোগান এবং শুভেচ্ছা বিনিময়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে দলটি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছিল। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।

                                           

সমাবেশে যুক্তরাজ্য শাখা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ শেহাব হোসেন জেবিন ও রাসেল আহমেদ খান সুহেলের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। তারা বলেন, প্রবাসে অবস্থান করেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ এবং বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সকলের দায়িত্ব।

শেহাব হোসেন জেবিন বলেন, “আওয়ামী লীগের ইতিহাস শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ইতিহাস নয়; এটি বাঙালি জাতির অধিকার আদায়, সংগ্রাম ও অর্জনের ইতিহাস। প্রবাসে থেকেও আমরা দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে কাজ করে যাব।”

রাসেল আহমেদ খান সুহেল বলেন, “প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আমাদের জন্য শুধু একটি উদযাপন নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ কর্মী Kazi Mehadi Jaman বলেন, "বাংলাদেশের এই ক্লান্তি লগ্নে শেখ হাসিনার প্রয়োজন । তোমাদের সকল ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা কিছু সময়ের জন্য সফল হতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই আমরা আবার বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করব।”

আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি নতুন ও প্রবীণ নেতৃত্বের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।