৯ জুন, ২০২৬

নাহিদ রানার বোলিং তোপে আসিদের উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

নাহিদ রানার বোলিং তোপে আসিদের উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। মিরপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। ২০০৫ সালে কার্ডিফে ঐতিহাসিক জয়ের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আবারও জয় পেল বাংলাদেশ।

এই জয়ের অন্যতম নায়ক তরুণ পেসার নাহিদ রানা। নিজের গতি ও বাউন্সে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে বারবার চাপে ফেলেন তিনি। ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন নাহিদ। তাঁর প্রতিটি উইকেটই আসে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির ডেলিভারিতে।

অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ার শুরুতেই আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করে দেন তিনি। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন মার্নাস লাবুশেনকে। মাত্র ২ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।

এরপর জশ ইংলিস ও কুপার কনোলি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা ভেঙে দেন নাহিদ রানা। ইংলিসকে আউট করার পর মাঠে কিছুটা উত্তেজনাও দেখা যায়। পরে অ্যালেক্স ক্যারিকেও ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাবনাকে আরও ক্ষীণ করে দেন এই তরুণ পেসার।

বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন মোসাদ্দেক হোসেন। টপ অর্ডারের ধসের পর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৭০ বলে অপরাজিত ৮৩ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। এছাড়া তানজিদ হাসান ৫৪ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭ রান করে দলের বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন।

নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে অস্ট্রেলিয়া নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। ক্যামেরন গ্রিন ৫২ রান করলেও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি। বৃষ্টির কারণে খেলা ব্যাহত হলেও শেষ পর্যন্ত ডিএলএস পদ্ধতিতে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণ শক্তির দল না হলেও, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তির বিপক্ষে এই জয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ২১ বছর পর পাওয়া এই সাফল্য দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।