পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি (মামলা নং-৪) রুজু করা হয়েছে।
দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধান ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে জানা গেছে, বগা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এই চেয়ারম্যানের নামে মোট ৩ কোটি ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
স্থাবর সম্পদের মধ্যে জমি, ভবনসহ মোট ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫ হাজার ৮৭৫ টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থসহ মোট ১ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৭৬৫ টাকা।
অনুসন্ধানকালে আবদুল মোতালেব হাওলাদারের পারিবারিক ও অন্যান্য জীবনযাত্রার যাবতীয় ব্যয় বাদ দিয়ে তাঁর মোট বৈধ আয়ের পরিমাণ পাওয়া যায় মাত্র ৬২ লাখ ২০ হাজার টাকা। হিসাব অনুযায়ী, এই আয়ের বিপরীতে তাঁর প্রকৃত বৈধ সঞ্চয় থাকার কথা ছিল ৪০ লাখ ৭৯ হাজার ৭৪০ টাকা।
ফলে তাঁর বৈধ আয়ের তুলনায় ২ কোটি ৭০ লাখ ১৩ হাজার ৯০০ টাকার অতিরিক্ত ও অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়া যায়। এই বিশাল অঙ্কের সম্পদের সপক্ষে তিনি কোনো বৈধ উৎস বা উপযুক্ত দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এই বিশাল সম্পদ অর্জন এবং তা ভোগদখল করে আসছিলেন তিনি; যা দুদকের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস এই মামলায় বাদী হয়েছেন। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সাইদুর রহমান অপু দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা, পটুয়াখালী কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী বরাবর মামলাটি রুজু করেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলাটির তদন্তভার ইতিমধ্যে একজন কর্মকর্তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা বা নতুন কোনো সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে, তাও আইনের আওতায় আনা হবে।