৩ জুন, ২০২৬

পৌরসভায় ‘মহাজালিয়াতি’: ভূয়া এনআইডি ও সার্টিফিকেটে চাকরি বাগালেন আবদুর রহিম !

পৌরসভায় ‘মহাজালিয়াতি’: ভূয়া এনআইডি ও সার্টিফিকেটে চাকরি বাগালেন আবদুর রহিম !

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং অষ্টম শ্রেণী পাসের ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদ ব্যবহার করে পটুয়াখালী পৌরসভায় নিরাপত্তা কর্মী পদে চাকরি হাতিয়ে নেওয়ার এক অবিশ্বাস্য চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির খবর পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত নিরাপত্তা কর্মীর নাম আবদুর রহিম গাজী। এই জালিয়াতির ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জন্মতারিখে ৯ বছরের শুভঙ্করের ফাঁকি ও অকৃতকার্য ছাত্রের ‘৮ম শ্রেণী পাস’
পৌরসভার নথিপত্র এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী পৌরসভায় চাকরির জন্য আবদুর রহিম গাজী যে অষ্টম শ্রেণী পাসের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন, সেটি জৈনকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। ওই সনদ অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৮৭ সাল। এতে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক এবং পটুয়াখালী পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডাঃ এস. এম একরামুল নাহিদের স্বাক্ষর রয়েছে।

অথচ, অনুসন্ধান এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজ অনুযায়ী, পটুয়াখালী সদর থানার টাউন বহালগাছিয়ার বাসিন্দা আবুল হাসেম গাজীর ছেলে পেশায় শ্রমিক এই আবদুল রহিম গাজীর প্রকৃত ভোটার নম্বর- ৭৮০০০২১০১৭৫৪ এবং প্রকৃত জন্মতারিখ ১ মার্চ ১৯৭৮ সাল। অর্থাৎ, পৌরসভায় চাকরি টিকিয়ে রাখতে তিনি নিজের বয়স কৌশলে ৯ বছর কমিয়েছেন।

অন্য দিকে, টাউন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসেন শহীদ কর্তৃক ২৫/০৮/২০২০ ইং তারিখে প্রদত্ত একটি প্রত্যয়ন পত্র ও সার্টিফিকেট অনুযায়ী , আবদুর রহিম গাজী যশোর বোর্ডের অধীনে ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি (SSC) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন (বোর্ড রোল নং ১১২৫, নিবন্ধন সংখ্যা ৯৭৪১৭, শিক্ষাবর্ষ ১৯৮৮-১৯৮৯)। সেই পরীক্ষায় তিনি ইংরেজিতে মাত্র ২৭ নম্বর পেয়ে অকৃতকার্য (ফেল) হন।

 ১৯৯০ সালে যিনি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছেন, তার জন্ম ১৯৮৭ সাল হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ ১৯৮৭ সালে জন্ম হলে ১৯৯০ সালে তার বয়স দাঁড়ায় মাত্র ৩ বছর! ৩ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া কিংবা অষ্টম শ্রেণী পাসের সনদ তৈরি করা এক চরম অবাস্তব ও কাল্পনিক জালিয়াতি।

আবদুর রহিম গাজীর এমন দুঃসাহসিক ও অবিশ্বাস্য জালিয়াতির নেপথ্যে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহলের দাবি, এই জালিয়াতির সাথে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন পটুয়াখালী পৌরসভার মেডিকেল অফিসার ডাঃ এস এম একরামুল নাহিদ এবং জৈনকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এই ভুয়া সনদ প্রত্যয়ন করেছেন। এই চক্রের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আবদুর রহিম গাজীসহ এই জালিয়াতির সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ।

এই সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক মোঃ জুয়েল রানা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন—

"জালিয়াতির বিষয়টি তদন্ত করা হবে। প্রমাণসাপেক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অতি দ্রুত চাকরিচ্যুত করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"