৩ জুন, ২০২৬

অসহায় বৃদ্ধের চোখে জল মুছে দিলেন ডিসি: পটুয়াখালীতে মানবতার অনন্য নজির

অসহায় বৃদ্ধের চোখে জল মুছে দিলেন ডিসি: পটুয়াখালীতে মানবতার অনন্য নজির


"তিনটি বছর এই অফিসের বারান্দায় ঘুরেছি বাবা, কেউ ফিরেও তাকায়নি। আজ ডিসি স্যারের উছিলায় মরার আগে দুমুঠো খেয়ে মরতে পারব।"—কাঁপা কাঁপা হাতে ৩৭ লক্ষ টাকার চেকটি জড়িয়ে ধরে এভাবেই বিলাপ করছিলেন পটুয়াখালী সদর থানার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৭৮ বছর বয়সের বৃদ্ধ আবদুল খালেক।

সরকারি জমি অধিগ্রহণের টাকা পেতে গত তিন বছর পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন তিনি। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর অবহেলায় বারবার নিরাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। তবে এবার চিত্রটা ছিল ভিন্ন। এক সপ্তাহ আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় অসহায়ভাবে বসে থাকতে দেখে বৃদ্ধ আবদুল খালেককে কাছে ডাকেন পটুয়াখালীর বর্তমান জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  আউলিয়াপুর ইউনিয়নে নির্মাণাধীন ইপিজেডের জন্য আবদুল খালেকের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও অদৃশ্য কারণে ফাইলটি থমকে ছিল দীর্ঘ তিন বছর। বৃদ্ধের করুণ কাহিনী শুনে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহসিন উদ্দিনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন ডিসি। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে আজ সকালে নিজ কার্যালয়ে বৃদ্ধের হাতে ৩৭ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়ে পটুয়াখালীর ইতিহাসে এক মানবিক শ্রেষ্ঠত্বের নজির স্থাপন করলেন তিনি।

যোগদানের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই পটুয়াখালীবাসীর আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছেন ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। সাধারণ মানুষের প্রতি তার আন্তরিকতা ও সততা ইতিমধ্যে মুগ্ধ করেছে পটুয়াখালীর সংসদ সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণকে। স্থানীয়রা বলছেন, "আমরা একজন প্রকৃত অভিভাবক পেয়েছি।"

চেক হস্তান্তরের সময় জেলা প্রশাসক জানান, জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। কোনো মানুষ যেন সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

আবদুল খালেকের মতো শত শত ভুক্তভোগীর কাছে এখন এক ভরসার নাম ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। সাধারণ মানুষের জয়গানে আজ মুখরিত পটুয়াখালী—'আমাদের জেলা প্রশাসক, আমাদের মানবিক অভিভাবক।'