৩ মে, ২০২৬

“২০ বছর বাফুফের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি” অবসরে বিস্ফোরক মামুনুল ইসলাম

“২০ বছর বাফুফের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি” অবসরে বিস্ফোরক মামুনুল ইসলাম

বাংলাদেশ ফুটবলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। অবসরের ঘোষণার পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ফুটবল জীবনের নানা দিক তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।

মামুনুল বলেন, “আমি ২০ বছর বাফুফের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। বারবার দল থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু পারফরম্যান্স দিয়ে টিকে থেকেছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফেডারেশন থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন না পেয়ে উল্টো নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

২০০৫ সালে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা এই মিডফিল্ডার ২০২৬ সালে এসে বিদায় নিলেন দেশের ফুটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে। প্রায় দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি ঘরোয়া ফুটবলে প্রায় ৪০০ ম্যাচ খেলেছেন, করেছেন ৫০টি গোল ও ২০০ অ্যাসিস্ট। জিতেছেন ১৬ থেকে ১৭টি ট্রফি। জাতীয় দলের হয়ে ৭৫ ম্যাচে করেছেন ৩টি গোল।

তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন ২০১০ সালের দক্ষিণ এশীয় গেমসে স্বর্ণপদক জয়। তবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে না পারার আক্ষেপ রয়ে গেছে তার কণ্ঠে। “এটা আমারও ব্যর্থতা, দেশের ফুটবলেরও ব্যর্থতা,” বলেন তিনি।

বিদেশি লিগে সুযোগ না পাওয়ার কারণ হিসেবে মামুনুল তুলে ধরেন এজেন্ট সংকট ও খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতির অভাব। তিনি জানান, নিজেও স্পেন ও মালয়েশিয়ার লিগ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলেন, কিন্তু যথাযথ এজেন্ট না থাকায় এগোতে পারেননি।

জাতীয় দলের জার্সি ও দেশের পতাকার প্রতি আবেগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। “জাতীয় পতাকা বহন করাই ছিল সবচেয়ে বড় গর্ব,” বলেন সাবেক এই অধিনায়ক।

অবসরের পর আপাতত কোচিংয়ে পুরোপুরি যুক্ত হচ্ছেন না মামুনুল। যদিও ‘এ’ লাইসেন্স সম্পন্ন করেছেন, তবে নিজেকে আরও প্রস্তুত করতে চান। বর্তমানে তিনি সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন এবং ফুটবল প্রশাসনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন।

সমর্থকদের উদ্দেশে তার বার্তা, “আমরা চেষ্টা করেছি মাঠে দর্শক আনতে। আশা করি ভবিষ্যতে ঘরোয়া ফুটবল আবার দর্শকে ভরে উঠবে।”

দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষে নিজেকে সফল বলেই মনে করেন মামুনুল ইসলাম। তার ভাষায়, “দেশের জন্য সেরাটা দিতে পেরেছি এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”