২৩ অক্টোবর, ২০২৬

মৌলভীবাজারে কুয়েত প্রবাসী সৈয়দ আব্দুল মালিকের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, আতঙ্কে নারী সদস্যরা

মৌলভীবাজারে কুয়েত প্রবাসী সৈয়দ আব্দুল মালিকের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, আতঙ্কে নারী সদস্যরা

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আনি কেলীবড় এলাকায় কুয়েত প্রবাসী সৈয়দ আব্দুল মালিকের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও মূল্যবান মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তামান্না আক্তার মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়ির গেট ও ঘর ভাঙচুর, পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রীসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

কুয়েত প্রবাসী সৈয়দ আব্দুল মালিক বিদেশে থাকায় বাড়িতে পরিবারের নারী সদস্যরা বসবাস করছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, এ অবস্থায় বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁরা অসহায় পরিস্থিতির মুখে পড়েন। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি ও মূল্যবান মালামাল হারানোর কারণে পরিবারটি বিপাকে পড়েছে।
একটি পরিবারের বসতবাড়িতে এ ধরনের ঘটনা ঘটার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকায় নারী সদস্যদের পক্ষে পরিস্থিতি মোকাবিলা ও প্রতিবাদ করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা জরুরি।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তামান্না আক্তারকে সিলেটে রেফার

ঘটনার পর তামান্না আক্তারের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রথমে তাঁকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তিনি সেখানে ওয়ার্ড নং-২৮-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তামান্না আক্তারের চিকিৎসার বিষয়টি পরিবারটির উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

ভুক্তভোগী তামান্না আক্তার 

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মামলা নং ২২, তারিখ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের উদ্যোগ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
পরিবারের প্রত্যাশা, পুলিশ প্রশাসন অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটন করবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সদস্যরা যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

একটি বসতবাড়ি একটি পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়। সেই বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ শুধু ক্ষয়ক্ষতির বিষয় নয়, পরিবারের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সঙ্গেও জড়িত। বিশেষ করে বাড়িতে নারী সদস্যরা অবস্থান করলে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।