৪ অক্টোবর, ২০২৬

নোবেল খ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত শেরপুরের শায়রি ও জয়া

 নোবেল খ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারে মনোনীত শেরপুরের শায়রি ও জয়া

‘শিশুদের নোবেল’ খ্যাত এই পুরস্কার দিয়ে আসছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামভিত্তিক শিশু সহায়তা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা কিডস রাইটস ফাউন্ডেশন। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে কাজ করা শিশু-কিশোরদের এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে থাকে।


বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০২৬ সালের মনোনীতদের তালিকায় শেরপুরের ফারাবি জাবিন শায়রি ও জয়া বণিকের নাম রয়েছে। 

সারা বিশ্ব থেকে ২৯৮ জনকে ২০২৬ সালের এ পুরস্কারের জন্য প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৪২ জন এবার মনোনয়ন পেয়েছে। আর শেরপুর জেলা থেকে মনোনয়ন পেয়েছে দুই জন। তারা হলেন  ফারাবি জাবিন শায়রি (১৬), জয়া বণিক (১৭)।

এবারের পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়া শিশু সাংবাদিক ফারাবি জাবিন শায়রি ২০২২ সাল থেকে শিশু সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। তার গ্রামের বাড়ি শেরপুরে হলেও এখন পড়াশোনার জন্য ঢাকায় থাকছেন।

শায়রি বলেন, “কোভিড মহামারীর সময় বাল্যবিয়ের ঘটনা বেড়ে গেলে ভাবতে শুরু করি সংবাদ প্রতিবেদনের বাইরে আর কী কী করতে পারি। এরপর বাল্যবিয়ে নিয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে একটি সংগঠন চালু করি।

“সমাজের জন্য কিছু করার প্রেরণা আমি হ্যালো থেকেই পেয়েছি। শিশু সাংবাদিকতা আমাকে অনেক কিছু যেমন শিখিয়েছে, তেমনি সমাজের প্রতি অনেক বেশি দায়বদ্ধতা তৈরি করেছে।”

অন্য দিকে, গত চার বছর ধরে শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছেন জয়া বণিক। উপকূলীয় অঞ্চলে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিক্ষাবঞ্চনার মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে গ্রাম ও অনলাইন-দুই মাধ্যমেই সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন তিনি।

জয়ার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় একাধিক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিবারকে শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশু অধিকার বিষয়ে হাজারো মানুষের কাছে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় জয়া বণিক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। শিশুদের নিয়ে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চাই।’


২০২০ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার’ পান নড়াইলের সাদাত রহমান। ‘সাইবার বুলিং’ থেকে শিশুদের রক্ষায় কাজ করে তিনি পুরস্কার পান।

২০০৫ সালে ইতালির রোমে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের এক সম্মেলন থেকে এই পুরস্কার চালু করা হয়। প্রতিবছর একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী পুরস্কারটি হস্তান্তর করেন। এজন্য পুরস্কারটিকে বলে হয়ে থাকে ‘শিশুদের নোবেল’।