পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলামের বিরুদ্ধে একই সাথে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার, শ্রমিকের পরিচয়ে বিদেশ ভ্রমণ এবং কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
শুধু তাই নয়, তথ্য অধিকার আইন অমান্য করে দপ্তরের অনিয়মের তথ্য প্রদানে সরাসরি অস্বীকৃতির অভিযোগও উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
সংগৃহীত নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, বিসিএস ক্যাডার এই কর্মকর্তা নিজের আসল পরিচয় গোপন করে ভিন্ন নামে দুটি এনআইডি তৈরি করেছেন প্রথম এনআইডি (সরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে) : নাম—মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম , এনআইডি নম্বর—৭৩০৫২৮২৫৫৫, জন্মতারিখ—১ জুলাই ১৯৭৬, পেশা—সরকারি চাকরি, পিতা—মোহাম্মদ ইউনুছু মিয়া, মাতা—আনোয়ারা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা—কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা।
দ্বিতীয় এনআইডি (শ্রমিক পরিচয়ে): নাম—আমিনুল ইসলাম, এনআইডি নম্বর—৩৭৮২২৪৭৫৫৯, জন্মতারিখ—১ জানুয়ারি ১৯৮২, পেশা—শ্রমিক, পিতা—মৃত ইউনুছু মাস্টার, মাতা—মৃত আনোয়ারা বেগম। স্থায়ী ঠিকানা—কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা।
সরকারি সহায়তায় ভর্তুকি মূল্যে প্রকৃত ও হতদরিদ্র কৃষকদের মাঝে কম্বাইন হারভেস্টারসহ আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণের নিয়ম থাকলেও, ড. আমানুল যোগদানের পর থেকেই এতে সিন্ডিকেট বাণিজ্য শুরু করেন। প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করে মনগড়া তালিকা তৈরি এবং পছন্দের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিম্নমানের মেশিন সরবরাহ করে সরকারি ভর্তুকির অর্থ আত্মসাতের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দপ্তরের বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে তথ্য চেয়ে আবেদন করা হলে তিনি তা সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানান। এছাড়া, বস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি দ্রুত ফোন কেটে দেন।
সার্বিক এই ঘটনা সরকারি কর্মকর্তার দ্বৈত পরিচয় ধারণ, জালিয়াতির মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণ, ক্ষমতার অপব্যবহার । পটুয়াখালীর সচেতন নাগরিকরা অভিযুক্ত এই দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্তপূর্বক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ।