পটুয়াখালী জেলার আকাশে আজ যেন এক দীর্ঘশ্বাসের মেঘ জমেছে। জেলার সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান করে নেওয়া, সততা, আদর্শ ও মানবতার মূর্ত প্রতীক, প্রিয়মুখ জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব হিসেবে বদলি হয়েছেন।
তাঁর এই প্রস্থানে পটুয়াখালীর বাতাসে বইছে এক অদ্ভুত বিষাদের সুর; সাধারণ মানুষের মনে নেমে এসেছে গভীর শূন্যতা ও নীরব বেদনা। তিনি কেবল একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাই ছিলেন না, বরং ছিলেন বিপদের দিনে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।
যোগদানের পর থেকেই ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী তাঁর আপসহীন সততা, অসামান্য কর্মনিষ্ঠা এবং জনবান্ধব হৃদয়ের ছোঁয়ায় পটুয়াখালীর প্রশাসনিক ইতিহাসে এক অনন্য ও সোনালী অধ্যায় রচনা করেছিলেন। দাপ্তরিক ফাইলের সীমানা পেরিয়ে জেলার অবহেলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তিনি যেভাবে নিজের হৃদয় উজাড় করে দিয়েছিলেন, তা যুগ যুগ ধরে পটুয়াখালীবাসীর স্মৃতির পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের চোখের জল মোছাতে তাঁর দুয়ার সবসময় খোলা ছিল। যেকোনো সংকটে তাঁর সাহসিক ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রমাণ করেছিল—প্রশাসনের হৃদয় থাকতে পারে, আর সেই হৃদয়ের নামই শহীদ হোসেন চৌধুরী।
পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, ড. শহীদ হোসেন চৌধুরী সবসময় ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে জনগণের অধিকার ও কল্যাণকে নিজের জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
তাঁর জাদুকরী ও সুদক্ষ নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে যেমন স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরে এসেছিল, তেমনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দেয়াল ভেঙে সাধারণ মানুষ খুঁজে পেয়েছিল এক পরম আপন অভিভাবককে।
জনগণের প্রতি তাঁর এই অক্লান্ত দায়িত্ববোধ, নিখাদ ভালোবাসা আর নিরহংকার ব্যক্তিত্বের কারণেই তাঁর বিদায়ের সংবাদটি পটুয়াখালীবাসীর বুকজুড়ে গভীর ব্যথার সৃষ্টি করেছে।
একজন ভালো মানুষের বিদায় যে কতটা মর্মস্পর্শী হতে পারে, তা আজ পটুয়াখালীর প্রতিটি অলিগলিতে মানুষের চোখের কোণে জমে থাকা কৃতজ্ঞতার অশ্রুতেই স্পষ্ট। পটুয়াখালীর মাটি ও মানুষের হৃদয়ে তাঁর এই মায়াভরা এই কর্মগুণের স্মৃতি চিরজাগরূক হয়ে থাকবে।
জেলাবাসীর পক্ষ থেকে বিদায়ী এই ক্ষণজন্মা ও গুণী প্রশাসকের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সর্বাঙ্গীন উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করা হচ্ছে ।