মৌলভীবাজারের চিকিৎসা খাত নিয়ে প্রকাশিত একটি পুরোনো সংবাদ প্রতিবেদনে তৎকালীন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ডা. সাবির হোসেন খানকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের শিরোনামে তাকে নিয়ে কঠোর ভাষায় মন্তব্য করা হলেও, মূল প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালসহ জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, নিয়োগ, বিভিন্ন পরীক্ষা এবং কমিশনসংক্রান্ত বিষয়ে একটি প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা ছিল। জেলার বাইরে থেকে কোনো চিকিৎসক মৌলভীবাজারে এসে চেম্বার করতে চাইলে তাকে নিয়মিত অর্থ দিতে হতো বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, এসব কারণে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সদের মধ্যেও নানা ধরনের চাপ ও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগের কারণে কেউ কেউ চাকরি করতে পারেননি এবং কেউ কেউ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ
প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আহত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিয়েও অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, আন্দোলনে আহত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন বিএমএ সভাপতি ডা. সাবির খানের নির্দেশে চিকিৎসক ও নার্সরা আহতদের চিকিৎসা দেননি, এমন অভিযোগও উঠেছিল। তবে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
পুরোনো মামলার প্রসঙ্গ
প্রতিবেদনে ডা. সাবির খানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০০৮ সালের মে মাসে তার মালিকানাধীন ইউনাইটেড কমপ্লেক্সের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক নারী ডায়াবেটিসসহ কয়েকটি পরীক্ষা করান, এমন তথ্য মামলাসংক্রান্ত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে প্রতিবেদনে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের তৎকালীন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আজাদুর রহমানের বক্তব্যও প্রকাশ করা হয়। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বর্তমান অবস্থা, সংশ্লিষ্ট মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডা. সাবির হোসেন খানের বক্তব্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।